Logo

১৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

১৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এবি ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখা থেকে ১৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যাংক কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক।

মামলার আসামিরা হলেন এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসভিপি ও ক্রেডিট ইনফরমেশন মনিটরিংয়ের ইনচার্জ মো. আজাদ হোসেন, ব্যাংকটির ইভিপি ও পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাহের হোসেন।

মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক থেকে বৈদেশিক ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করেছেন এবং স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন। কিন্তু ওই পণ্য বিক্রি করে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেননি তারা। এভাবে তারা ব্যাংকের মোট ১৩৩ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার ৬১৭ টাকা (সুদসহ) আত্মসাৎ করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাহের হোসেন ২০০১ সালে এবি ব্যাংকের পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখায় একটি হিসাব খোলেন। শাখার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এবি ব্যাংকের প্রধান শাখা ওই ব্যবসায়ীর অনুকূলে ঋণ অনুমোদন দেন। শাখা ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিন মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ১০ শতক জমি সহায়ক জামানত হিসেবে নিয়ে ঋণ প্রস্তাব প্রদান ও ঋণ বিতরণ করেন। তারা আমদানি করা খাদ্যসামগ্রী গুদামে মজুদ ও বিক্রির বিষয়ে যথাযথ তদারক না করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যা ওই গ্রাহককে ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে বিক্রি করা পণ্যের অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার পরিবর্তে আত্মসাৎ করেছেন ওই গ্রাহক।

ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসভিপি আজাদ হোসেন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় গ্রাহক ওই অর্থ আত্মসাতের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।