Logo

‘হলুদ’ চাপে পিছপা ফ্রান্স, বিক্ষোভের মুখে জ্বালানি কর বাতিল

‘হলুদ’ চাপে পিছপা ফ্রান্স, বিক্ষোভের মুখে জ্বালানি কর বাতিল

টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের মুখে জ্বালানি তেলের ওপর করারোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে ফ্রান্স সরকার। মঙ্গলবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এক টেলিভিশন ভাষণে এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্দ ফিলিপ। জনমতের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় ফ্রান্স সরকার।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র নাগরিক অসন্তোষের। প্রতিবাদে ট্যাক্সি চালকদের ব্যবহৃত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ পরে রাস্তায় নেমে আসে ফরাসিরা। দেশের সব বড় শহরে অবস্থান নেয় ক্ষুব্ধ লক্ষাধিক ‘হলুদ’ বিক্ষোভকারী।

টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম অবস্থা প্রশাসনের। ঘুম হারাম পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর। গণবিক্ষোভে প্রবল চাপে সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা হতে বাধ্য হল সরকার। খবর বিবিসি ও এএফপির।

টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ বলেন, ‘জন-অসন্তোষ অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এ সক্রান্ত কোনো ঘোষণা কার্যকর হবে না।’

কর বৃদ্ধির ঘোষণার পর ১৭ নভেম্বর শুরু হয় ‘ফরাসিদের ইয়েলো ভেস্ট বিপ্লব’। ফ্রান্সজুড়ে সব বড় শহরের রাস্তা অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। সবার গায়ে হলুদ রঙের জ্যাকেট, যা ইয়েলো ভেস্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতীকীভাবে হলুদ রঙ বেছে নেয়ার কারণ, ফরাসি আইন অনুযায়ী প্রত্যেক গাড়িতে হলুদ রঙের কাপড় থাকতে হয়।

শুরুতে শান্তিপূর্ণই ছিল সপ্তাহান্তে আয়োজিত এই বিক্ষোভ। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ধরপাকড় ও দমনপীড়নের ফলে সহসাই সহিংস রূপ নেয়। প্যারিসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চ্যাম্পস এলিসিসহ বেশ কিছু স্থানে বেধে যায় দাঙ্গা। রোববার আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দাঙ্গায় অচল হয়ে যায় রাজধানী প্যারিস।

গত এক দশকের মধ্যে এমন দাঙ্গা দেখেনি ফ্রান্স। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ। প্রাণ বিসর্জন দেন তিন বিক্ষোভকারী। আহত হন প্রায় দেড়শ’ জন। আটক চারশ’র বেশি।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১৮ মাসের মধ্যে ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে এটাই সবচেয়ে বড় ও ধারাবাহিক আন্দোলন, যা ক্রমেই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছিল। বিবিসি জানায়, বিক্ষোভে শহরগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। উৎপাদনকারীরা বলছেন, বিক্রি কমেছে প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে বসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ। তবে বৈঠক থেকে সরে আসেন বিক্ষোভকারীরা। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ গ্র“পের কয়েকজন সদস্য জানান, সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না যাওয়ার জন্য ‘বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে মৃত্যু হুমকি পেয়েছেন তারা।