Logo

সিইসি আগে কী বলেছিলেন?

সিইসি আগে কী বলেছিলেন?

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আইনবিধি সংস্কার, ইভিএম ব্যবহার, নিয়োগ-পদোন্নতিসহ নানা ইস্যুতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুধু বিতর্ক নয়- এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে দূরত্ব তৈরি হয় নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে। এবার ভোটের তারিখ ঘোষণা নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন  কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা দাবি করেছেন, ‘ডিসেম্বর মাসে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে’ এমন কোনো কথা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। সিইসি বলেন, নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে- এটা এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে- এটা আমরা বলিনি। যারা বলেছেন, সেটা তাদের কথা।

উনারা উনাদের হিসাবমতো বলেছেন।


গত শনিবার বিকালে সুনামগঞ্জে উন্নয়ন মেলায় ইভিএম প্রদর্শন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে ভিন্ন কথা। নিকট অতীতে সিইসি বেশ কয়েকবার ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়ে কথা বলেছেন। জাতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সিইসি নূরুল হুদা নিজে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ একাধিক উপলক্ষে ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্যতার কথা বলেছেন। সিইসির গত ২৭শে সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তবে ভোটগ্রহণের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আশা করি নভেম্বর মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও একবার সিইসি বলেছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে বা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। শুধু সিইসি নন, আগামী ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ করা হবে- এমন কথা ইসি সচিবও একাধিকবার বলেছেন। 

গত ২৮শে আগস্ট নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা জানান। হেলালুদ্দীন বলেন, জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। সে সময় নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকে। ৮ই আগস্ট ইসি বলেন, সাংবাদিকরা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করছেন ‘ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে?’। জবাবে স্পষ্টভাবেই ইসি সচিব বলছেন, শেষ সপ্তাহে। একই ধরনের বক্তব্য তার আগেও দিয়েছেন ইসি সচিব। ১৬ই আগস্ট তিনি বলেছিলেন, নভেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে এবং ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ভোটের তারিখ নিয়ে কথা বলেছেন। ইসির সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা একের পর এক তারিখ ঘোষণা করেছেন। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যে বিব্রত কমিশন। গত ৫ই সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক সভায় বলেছিলেন, ২৭শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এই তারিখ তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছেন বলে ওই সভায় উল্লেখ করেন। এর পরদিন সিইসি মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, অর্থমন্ত্রী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে ঠিক করেননি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর কোনো কথা হয়নি। এরপর গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল হতে পারে। পরদিন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসির সঙ্গে আলোচনা না করেই ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ইসির কাজ। আর ইসি এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। মন্ত্রীর এ বক্তব্য আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরেই কমিশন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না সেই বিষয়টা দেখবে। তার আগে দেখবে না।