Logo

সবজি সমারোহে বঞ্চিত কৃষক

সবজি সমারোহে বঞ্চিত কৃষক

শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন সবজি আড়ৎ থেকে হরেকরকমের শাক সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন শহরে গঞ্জে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সহ তার আশপাশ এলাকায় উৎপাদিত শাক সবজিগুলোর মধ্যে রয়েছে শসা, লাউ, বরবটি, করল্লা, কাকরল, কাঁচা মরিচ, ঝিঙ্গাঁ, চিচিংগা, পটল, বেগুন, লালশাক, চালকুমড়া, কচুর মুখি, মিষ্টিকুমরা ইত্যাদি। চাষীরা এসব সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন শায়েস্তাগঞ্জের আলীগঞ্জ বাজার ও পুরাণবাজারে। বাজার থেকে পাইকাররা ওই সব সবজি ক্রয় করে আড়তে নিয়ে আসেন। আড়ৎ থেকে বিভিন্ন যানবাহন ও ট্রেন যোগে সবজি গুলো নিয়ে যাওয়া হয় সিলেটের হাওরাঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জ, বড়লেখা, জুরি, জগন্নাতপুর, ধিরাই, শাল্লাসহ সিলেট সদর পর্যন্ত। এ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার নানা স্থানে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এই সব সবজি। 

দীর্ঘদিন যাবত শায়েস্তাগঞ্জের কদমতলী, বড়চর, নিশাপট, কাজিরগাও, বাগুনীপাড়া, আলাপুর, চরহামুয়ার কৃষকরা সবজি চাষ ও করে বিক্রি করে আসছেন। সবজি চাষই হচ্ছে তাদের বুনিয়াদী পেশা।

শায়েস্তগঞ্জের পার্শ^বর্তী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল, নিজামপুর ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল ও চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চল খ্যাত লালচাঁন ও দেউন্দি চা বাগনের নিকটবর্তী, রমাপুরসহ ওই এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা নানান ধরনের সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন শায়েস্তগঞ্জের বাজার গুলোতে। এদিকে সবজি চাষে বিভিন্ন প্রকার ঔষধ সার কীটনাশকের প্রয়োজন হয়। এসব ব্যতিত কৃষকরা ভাল ও উন্নত মানের ফসল ফলাতে পারছেন না। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তনে পূর্বে কৃষকরা তাদের জমিতে পালিত গরুর গোবর সার হিসেবে ব্যবহার করে ভাল ভাবে ফসল তুলতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সার ও কীটনাশক দিয়েই ফসল ফলানো হচ্ছে। বর্তমানে ওই সমস্থ সার ও কীটনাশকের দাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা নিয়মিত চাষ করে যাচ্ছেন। কৃষকদের চাষকৃত সবজির সঠিক মূল্য থেকে বরাবরই বঞ্চিত হচ্ছেন। পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে লাউ প্রতিটি ৭০ টাকা, মরিচ প্রতি কেজি ৫০/৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, করল্লা প্রতি কেজি ৩০ টাকা মূল্যে ক্রয় করছেন। যা বাজার মূল্যের থেকে অনেক কম।