Logo

সপ্তাহের শেয়ারবাজার : টানা তৃতীয় সপ্তাহে কমেছে ডিএসইএক্স

সপ্তাহের শেয়ারবাজার : টানা তৃতীয় সপ্তাহে কমেছে ডিএসইএক্স

আগের দুই সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহেও নেতিবাচক ধারায় লেনদেন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহে কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসসিএক্স। গেল সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিনদিন দর হারিয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইএক্স ২৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট ও সিএসসিএক্স ৪৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় কাজ করছে। এ কারণে পতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজার। তবে ডিএসইর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে পাওয়া সাড়ে ৯০০ কোটি টাকার পাশাপাশি আইসিবির বন্ডের অর্থ বাজারে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহের প্রথম দিন লেনদেনের শুরুতে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকে ডিএসইতে। বড় পতন শেষে প্রথম দিনেই প্রায় ৭১ পয়েন্ট হারায় স্টক এক্সচেঞ্জটির ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স। পরের দুদিন সূচক বাড়লেও শেষ দুই কার্যদিবসে আবার পতনে নেতিবাচক অবস্থানেই শেষ হয় সাপ্তাহিক লেনদেন। সপ্তাহ ব্যবধানে দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে বৃহস্পতিবার ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২৮২ পয়েন্টে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমেছে ডিএসই ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০। সপ্তাহ শেষে ১ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ২২৩ পয়েন্টে।

এদিকে সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে। সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৪৮২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪০৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকায়। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৪১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৪৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ১৫৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহেও ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে ডিএসইর বাজার মূলধন আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৬ কমে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকায় অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায়। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন এবং বীমা খাত ছাড়া প্রায় সব বড় খাতের বাজার মূলধন কমেছে। সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে সিমেন্ট খাত। ব্যাংকিং খাতের বাজার মূলধন কমেছে ২ দশমিক ৩২ শতাংশ। এছাড়া ২ দশমিক ৪২ শতাংশ বাজার মূলধন কমেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। অন্যদিকে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাজার মূলধন বেড়েছে বস্ত্র খাতে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের মোট ১৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, ১৩ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ ব্যাংকিং খাত ও ১০ শতাংশ রয়েছে প্রকৌশল খাতের দখলে।

ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকার কোম্পানিগুলো হলো খুলনা পাওয়ার, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মুন্নু সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ, নুরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড, ইনটেক, সামিট পাওয়ার, এডভেন্ট ফার্মা, বিবিএস কেবলস, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৪৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৭৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৮৪৩ পয়েন্টে। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই ৩০ ইনডেক্স দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে নেমে গেছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৫১৩ পয়েন্টে। সিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ১২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩১টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সপ্তাহ শেষে দর হারিয়েছে ১২৯টি আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বাজারদর।