Logo

লাইসেন্স পায়নি তিন ব্যাংক

লাইসেন্স পায়নি তিন ব্যাংক

নতুন ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বোর্ডসভায় একটি ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও লাইসেন্স দেয়া হয়নি। অন্য ব্যাংক দুটির বিষয়ে কাগজপত্র ঠিক করতে বলা হয়েছে। বোর্ডসভায় ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। সভা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নতুন ব্যাংক না দেয়ার পক্ষে। তাই এটি আটকে গেছে। নির্বাচনের পরে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তি জানালেও সরকারের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালে নতুন ৯টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের জন্য সীমান্ত ব্যাংক দেয়া হয়। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে অতফসিলিভুক্ত থেকে তফসিলি ভুক্ত ব্যাংক করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবরে পুলিশ সদস্যদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুলিশের ব্যাংক ছাড়া আরও ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনা ছিল। ওই বোর্ডসভায় ৩টি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তা পরের বোর্ডসভায় ওঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২৫ নভেম্বর বোর্ডসভায় এজেন্ডা আকারে ৩ ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অজানা কারণে ওই বোর্ড একদিন আগে বাতিল করা হয়। ব্যাংক তিনটি হল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক।

এর মধ্যে বেঙ্গল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হচ্ছে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সিটিজেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক এবং পিপলস ব্যাংকের উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এমএ কাশেম।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স সংক্রান্ত এজেন্ডা বোর্ডসভায় ছিল। বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের কাগজপত্র সন্তোষজনক। তবে প্রাথমিক লাইসেন্স (লেটার অব ইনটেন্ড-এলওআই) আগামী বোর্ডসভায় দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত উদ্যোক্তাদের সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। সিটিজেন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে কর বকেয়া রয়েছে। কর পরিশোধের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনাপত্তি পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সন্তোষজনক ব্যাংকটির বিষয়ে এলওআই দিতে আগামী বোর্ডসভায় স্মারক উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। অন্য দুটি ব্যাংকের কাগজপত্র কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আগামী বোর্ড উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের তুলনায় ১৩ গুণ বড় মেক্সিকোর ব্যাংক সংখ্যা ৪৭টি। বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৭৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে ‘সুবোধ বালক’র মতো আচরণ করছে।