Logo

রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত: সুচি

রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত: সুচি

মিয়ানমারের রাখাইনে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত বলে মন্তব্য করলেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কিছু উপায় ছিলো। ঘটনার পরবর্তী বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই সংকট আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত।’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে। মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে আসছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোন নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার আসিয়ান নিয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে কথা বলা সময় সু চি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। আমরা নির্ধারণ করে রাখতে পারি না যে আইনের মাধ্যমে কাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলা হয়েছিলো, বেসামরিক সর্বোচ্চ নেতা অং সান সু চিরও সমালোচনা করে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ঠেকাতে নিজের নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।সেই প্রতিবেদন ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন প্রধান রাদ আল হুসেন বলেছিলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
এছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময় আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের সমালোচনা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নীরব থাকার মতো করেই নীরব ছিলেন সু চি। তার নীরবতাকে সমর্থন করে দেশটির এক কর্মকর্তার দাবি, বিচার বিভাগের সমালোচনা আদালত অবমাননার শামিল।