Logo

রাজস্ব আড়াই কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও উপেক্ষিত শ্রমিক নিরাপত্তা

রাজস্ব আড়াই কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও উপেক্ষিত শ্রমিক নিরাপত্তা

সুন্দরবনের দুবলারচরে শুরু হয়েছে শুঁটকি তৈরির কর্মযজ্ঞ। গত বছরের তুলনায় মাছ ধরা পড়ছে বেশি, বেড়েছে জেলে ও শ্রমিকের সংখ্যাও। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়িয়েছে বন বিভাগ। কিন্তু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরের মতো এবারো উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, সুন্দরবনে সাতটি চরের জেলেপল্লীগুলোতে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়, যা দেশে মোট উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ। আর এবার শুঁটকি তৈরির মৌসুমে আড়াই কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায়ের আশা করছে বন বিভাগ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের পাড়ে সুন্দরবনের দুবলারচরের জেলেপল্লীগুলোতে শুঁটকি প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে মাছ আহরণ আর শুঁটকি প্রস্তুত নিয়ে রাতদিন কাবার করছেন জেলে, মহাজন আর শ্রমিকরা।

বন বিভাগ ও মহাজন সূত্রে জানা যায়, দুবলারচরের আলোরকোল, অফিসকিলা, মেহেরআলীর চর, নারকেলবাড়িয়া, শেলা ও ছাপরাখালীসহ অন্তত ১৩টি চরে প্রায় ৫০ হাজার জেলে অস্থায়ীভাবে বসতি গড়েছেন। প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মাছ আহরণ শুরু হলেও এ বছর সাগর ও সুন্দরবনে ইলিশ রক্ষায় মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এক মাস দেরিতে শুরু হয়েছে শুঁটকির মৌসুম। অন্তত একশ প্রজাতি মাছের শুঁটকি তৈরি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাগর ও সুন্দরবন-সংলগ্ন মোংলা, রামপাল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, পাইকগাছা, পিরোজপুর, বরগুনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ উপকূল থেকে দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ দুবলারচরে কাজ করতে এসেছেন। পাঁচ মাস অস্থায়ী বসতিতে থেকে শুঁটকি তৈরি করবেন তারা।

কিন্তু এ মানুষগুলোর জন্য চরগুলোতে নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। এছাড়া সেখানে রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো চরে রয়েছে মাত্র পাঁচটি সাইক্লোন শেল্টার। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লোকের স্থান সংকুলান হয়। বাকি ৩০-৩৫ হাজার লোককে আশ্রয় নিতে হয় বনের ভেতরে ছোট ছোট খাল ও বড় গাছে। সিডর ও আইলার আঘাতে দুবলারচরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন সহস্রাধিক জেলে ও বহদ্দার। জেলেপল্লীগুলোতে দুর্যোগে নিরাপত্তা ও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ৪০টি সাইক্লোন শেল্টার ও ৪০টি দীঘি খননের দাবি জানান তিনি।

কামাল উদ্দিন আরো জানান, গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছে দুর্যোগের বার্তা পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। দিক নির্ণয়ের জন্য বয়া বাতি না থাকায় অনেক জেলেই দুর্যোগের সময় সাগর থেকে দ্রুত ফিরতে পারে না। দিক ভুল করে চলে যায় ভারতের জলসীমায়। তখন আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। জেলেপল্লীগুলোতে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার চরগুলোতে পাঁচটি ভাসমান মেডিকেল টিমকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের দুবলা, মেহেরআলী, আলোরকোলসহ বিভিন্ন ফরেস্ট স্টেশন ও ক্যাম্প এলাকায় দুর্যোগ মোকাবেলায় আধুনিক বহুতল (তিনতলা) ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হরিণটানা এলাকায় সাইক্লোন শেল্টারের আদলে আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বছর অন্যান্যবারের তুলনায় মাছ অনেক বেশি পড়ছে। তাই গত বছর এখান থেকে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এবার সব ঠিকঠাক থাকলে আরো বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।