Logo

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

রোজার পণ্য পরিবহন ঘিরে কোন ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি। এক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স থাকবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পণ্যের আমদানি পর্যাপ্ত হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে চাহিদার চেয়েও বেশি মজুদ আছে। ফলে রোজায় পণ্যের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। বুধবার রোজার পণ্য সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি সংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য বলা হয়, মিলগেটে প্রতিকেজি পণ্যতে ৫০ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৫ টাকা মুনাফা করলে পণ্যের দাম বাড়বে না। দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, দাম বাড়ার আরও একটি কারণ পথে পথে চাঁদাবাজি। এটি বন্ধ করতে হবে। এটি বন্ধ করা গেলে পণ্যের দাম বাড়বে না।

ওই বৈঠকে রমজানের অতি প্রয়োজনীয় চিনি, ডাল, ছোলা, খেজুর, ভোজ্য তেলে মজুদ ও আমদানি এবং এলসি খোলার সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয় প্রতিটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। ফলে রোজার সময় এসব পণ্য দাম বাড়ার কোন কারণ দেখা যাচ্ছে না। দাম যাতে না বাড়ে এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আসন্ন রমজান উপলক্ষে ৮ লাখ মেট্রিক টন পেয়াজের এলসি খোলা হয়েছে। এরমধ্যে চলতি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ৮২ হাজার টন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রমজানে এ পণ্যের চাহিদা হল ৫ লাখ টন। ফলে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি বেশি হয়েছে। বর্তমান বাজারে দেশী পেয়াজ ২২-২৮ এবং আমদানিকৃত পেয়াজ ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে প্রায় ৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকলেও গত ৯ মার্চ পর্যন্ত আমদানি করা হয় ৮৯ হাজার ৩৯০ টন এবং এলসি খোলা হয়েছে ৮৪ হাজার ৭৪৮ টনের। এ তথ্য অনুযায়ী চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে। বর্তমান বাজারে এককেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৯০ টাকায়।

এদিকে পর্যাপ্ত মশুর ডাল আমদানি করা হয়েছে রমজান উপলক্ষে। এরমধ্যে রমজানের চাহিদা হচ্ছে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এ সময় আমদানি করা হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার টন এবং এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন ডালের।

আসন্ন রমজানকে সামনে খেজুর আমদানির পরিমান এখন পর্যন্ত কম আছে। রমজানে খেজুরের চাহিদা হচ্ছে ১৮ হাজার টন। এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৯ টন। রমজানে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য হচ্ছে ভোজ্যতেল। এ পর্যন্ত এ পণ্যটি আমদানি করা হয়েছে ১৪ লাখ ৬৯ মেট্রিক টন এবং এলসি খোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার টন। এ পণ্যের রমজানে চাহিদা হচ্ছে ৩ লাখ মেট্রিক টন।

এছাড়া রোজার চাহিদাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা চিনিও পর্যন্ত আমদানি করেছে। রোজায় চিনির চাহিদা হচ্ছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে ১০ লাখ ৭০ হাজার টন। পাশাপাশি এলসি খোলা হয়েছে ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টন। রোজার চাহিদার কয়েকগুন বেশি চিনি আমদানি হয়েছে।