Logo

যুক্তরাজ্যে শামীমার নাগরিকত্ব বহাল রাখার অনুরোধ বাবার

যুক্তরাজ্যে শামীমার নাগরিকত্ব বহাল রাখার অনুরোধ বাবার

জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তার বাবা আহমেদ আলী।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে একটি সাক্ষাৎকার দেন আহমেদ আলী।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি শামীমা স্বীকার করে যে, সে অপরাধ করেছে; তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত। তবে এখনই তার সন্তানের নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত নয়৷

তিনি বলেন, আমার সন্তান যখন সিরিয়া গিয়েছিল, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫, সে ছিল অবুঝ৷ আমি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা না হয়৷

সে যদি অপরাধ করে থাকে, তবে তাকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেয়া হোক৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ সম্প্রতি শামীমার নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন৷ শামীমার পরিবার তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই বলে জানিয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে এখন মামলা চলছে৷

জিহাদের জন্য চার বছর আগে দুই সঙ্গীসহ আইএসে যোগ দিতে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পাড়ি দেয়া শামীমা বেগমকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে ফিরে যেতে চান তার স্বামী ইয়াগো রিদাইক।

২০১৫ সালে শামীমা সিরিয়ায় আইএসনিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়। তখন শামীমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো জানান, তিনি আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নিজ দেশ ছাড়লেও এখন স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে দেশে ফিরতে চান। ২৭ বছর বয়সী ইয়াগো বর্তমানে সিরিয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বাহিনীর হাতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে আটক আছেন।

নিজ দেশে ফিরে গেলে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেয়ার অপরাধে ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ইয়াগো রিদাইকের।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিবেদক কুয়েনটিন সামারভিলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো বলেন, তিনি ভুল বুঝতে পেরে আইএসকে পরিত্যাগ করেছেন। এখন এ দলটি ছেড়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। এ কারণে জঙ্গিরা তাকে ডাচ্গোয়েন্দা দাবি করে রাকায় কারাবন্দি করে নির্যাতন করছে।

৩৯ হাজার লোকের সঙ্গে ইয়াগো, শামীমা ও তাদের নবজাতক জারাহ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল-হাওয়াল শরণার্থী শিবিরে এক গ্রুপ সিরিয়ান যোদ্ধার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শামীমা এখন অন্য কোথাও পালিয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে শামীমার পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আখুঞ্জির বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান গত শুক্রবার এক খবরে বলেছে- জঙ্গিদের কাছ থেকে হত্যার হুমকির পর নিজের ও নবাগত সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছেন শামীমা।

শুক্রবার ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানের খবরে বলা হয়, নিজের দুর্দশার কথা প্রকাশ করায় জঙ্গিরা শামীমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করার চিঠি দিয়েছে ব্রিটেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য থেকে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীমা।

তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী আমিরা আব্বাস। তারও বয়স ছিল তখন ১৫ বছর।

তা ছাড়া খাদিজা সুলতানা নামে ১৬ বছর বয়সী আরেক বান্ধবীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তারা তিনজনই লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির শিক্ষার্থী ছিলেন।

তারা তিনজন যুক্তরাজ্যের গেটওয়ে বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তুরস্কে পৌঁছেন। তুরস্কে পৌঁছানোর পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিরিয়ায় যান।

সিরিয়ার শহর রাক্কায় কিছু দিন অবস্থানের পর ডাচ নাগরিক ইয়াগো রিদাইকের সঙ্গে শামীমার বিয়ে হয়। তিনি অন্য ধর্ম থেকে ইসলামগ্রহণ করেছিলেন।