Logo

মেক্সিকো সীমান্ত পরিদর্শনের ঘোষণা ট্রাম্পের

মেক্সিকো সীমান্ত পরিদর্শনের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, এ সপ্তাহেই তিনি মেক্সিকো সীমান্ত পরিদর্শন করবেন। টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে দুই যুক্তরাষ্ট্র সরকারে চলা আংশিক অচলাবস্থার ১৭ দিনের মাথায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি আপনাদের জানাতে পেরে আনন্দিত যে, আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে মানবিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকট সম্পর্কে মঙ্গলবার রাত ৯টায় জাতিকে জানাবো।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান  হয় যে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দেয়াল নির্মাণে তহবিল বরাদ্দ দিতে না চাইলেও এ ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত অনড় অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কেননা তিনি মনে করেন, এ দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারেরও রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে। তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা মনে করেন বিশাল সীমান্তজুড়ে এই দেয়াল নির্মাণ খুবই ব্যয়বহুল এবং একইসঙ্গে এটি একটি অনৈতিক পদক্ষেপ।

এর আগে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অর্থ না দিচ্ছে ততক্ষণ সরকারে অচলাবস্থা বিদ্যমান থাকবে। এই অচলাবস্থা মাসের পর মাস এমনকি প্রয়োজনে বছরের পর বছর ধরে চলবে।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে ৫৬০ কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ করতে কংগ্রেসের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি সরকারের অচলাবস্থা বহু বছর ধরে সহ্য করতে প্রস্তুত আছেন। কিন্তু মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার অবস্থান থেকে তিনি সরে যাবেন না।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাওয়া অর্থ বরাদ্দ না রেখেই সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল পাস হয়েছে। দুই সপ্তাহ সরকারে চলা আংশিক অচলাবস্থার নিরসনে ৩ জানুয়ারি ছয়টি বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে বিলটি পাস হয়ে গেলেও তা সিনেটে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটররা এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাছাড়া সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া ছাড়া বিলটি অনুমোদন না করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্পও। সব মিলে শাটডাউন নিরসন প্রশ্নে অনিশ্চয়তা এখনও কাটছে না।

মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনও কখনও মার্কিন কংগ্রেস তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেওয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ছিল অপরিহার্য। তবে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ‘অচলাবস্থা’। বরাদ্দ কম পড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫টি কেন্দ্রীয় দফতরের মধ্যে ৯টিতে আংশিক শাটডাউন শুরু হয়।

৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে নবগঠিত কংগ্রেসের অধিবেশন। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে (কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ) বেশী আসনে জয়ী হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার নতুন কংগ্রেস সদস্যরা শপথ নেন। এদিন ন্যান্সি পেলোসিকে দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত করার পরই ডেমোক্র্যাটরা তাদের বিল উত্থাপন করে। প্রতিনিধি পরিষদে শাটডাউন নিরসন সংক্রান্ত ছয়টি এবং ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরকে বরাদ্দ দেওয়া সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। তবে বিল পাসের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্তকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনও বিলকে আইনে পরিণত করতে হলে তা কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস করাতে হয় এবং সবশেষে প্রেসিডেন্ট সে বিলে স্বাক্ষর করেন।

২ জানুয়ারি সিনেটের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল জানিয়ে দিয়েছেন, ওই বিল অনুমোদন করবেন না তারা। কারণ ট্রাম্প সেখানে স্বাক্ষর করবেন না।

শাট ডাউনের অবসানে গত বুধবার আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। বৈঠকের পর ন্যান্সি পেলোসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আরও একবার রিপাবলিকানদের সম্মতিসূচক উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম।’ কিন্তু ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে ৫৬০ কোটি ডলারের দাবি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।