Logo

মডেল টেস্ট না দিলেও টাকা চাই

মডেল টেস্ট না দিলেও টাকা চাই

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক বসতে হচ্ছে মডেল টেস্টে। দুবারে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা। কেউ যদি পরীক্ষা দিতে না চায়, তাহলে সে নাও দিতে পারবে। তবে তাতেও ‘টাকা আমার চাই’।

মডেল টেস্ট না দিলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া যাবে কি না, এই আশঙ্কার কথা বলেছে একজন পরীক্ষার্থী। শিক্ষকদের রোষানলে পড়তে হবে আশঙ্কায় সে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধও করেছে।

এই চিত্র কম-বেশি ঢাকার সব স্কুলেই। সরকারি-বেসরকারি বাদ যাচ্ছে না কেউই। নার্সারি থেকে শুরু করে নানা কায়দা-কসরতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যে যজ্ঞ চলছে, তা থেকে বাদ যাচ্ছে না স্কুলজীবন শেষ করতে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও।

মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক বলেছেন, শেষ মুহূর্তে এ ধরনের পরীক্ষা কোনো উপকার নিয়ে আসে না। উল্টো এতে চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রস্তুতিতে তৈরি হচ্ছে বাধা। কেননা, নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এসব মডেল টেস্ট দেওয়া কতটা জরুরি, এমন প্রশ্নে একজন পরীক্ষার্থী বলে, ‘প্রথমে তো শুনলাম মডেল টেস্ট না দিলে অ্যাডমিট কার্ড নিয়া ঝামেলা করবে। তাই টাকা দিয়া দিছি। সবাই দিছে। আমি দুই বারে মোট ছয়টা না সাতটা পরীক্ষা দিছি। পরীক্ষা না দিলে কিছু বলে না।’ এ বিষয়ে জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ফিক্সড ফোন নম্বরে গত বৃহস্পতিবার অন্তত ১০ বার কল করা হলেও কেউ ফোন ধরেনি।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পেছনে সরকারি স্কুল গণভবন সরকারি বিদ্যালয়ও এর বাইরে নয়। সেখানে মডেল টেস্টের নামে শিক্ষার্থীদের থেকে নেওয়া হয়েছে মাথাপিছু ৬০০ টাকা। তবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মতে, বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, ‘এটা আমাদের থেকে একটা ফাউ টাকা নিছে। কিসের মডেল টেস্ট? কেউ তো দেয় না। টাকা নেওয়া দরকার ছিল নিছে। সারা বছর ভালোভাবে পড়ে আসছি। এখন শেষ সময়ে গিয়ে একটা ঝামেলা করতে চাইনি। তাই দিয়ে দিছি।’

আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘৬০০ টাকা বড় কথা নয়। কিন্তু শিক্ষকরা এভাবে ফাউ টাকা কেন নেবে? পরীক্ষা জরুরি না, কিন্তু টাকা নেওয়া জরুরি, এটা কেমন কথা? আমরা কিছু বলতে পারি না, কারণ দুই দিন পরে পরীক্ষা। পরে যদি আবার অ্যাডমিট না দেয়, এই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।’

কামরাঙ্গীরচরের কে সি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নিবন্ধন নেই। তাই শিক্ষার্থীরা এই স্কুলে পড়াশোনা করলেও বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় অন্য স্কুলের নামে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে স্কুল ছেড়ে যাবে, এমন শিক্ষার্থীদের থেকে শেষ সময়ে কিছু টাকা বাগিয়ে রাখতে চায় স্কুলটি। মডেল টেস্টের নামে প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪৫০ টাকা। অথচ পরীক্ষার হলে দেখা নেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর। আবার বিষয়টি নিয়ে চাপও নেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।