Logo

বড় চুল্লিতে পোড়ানো হয় খাসোগির মৃতদেহ: আল জাজিরা

বড় চুল্লিতে পোড়ানো হয় খাসোগির মৃতদেহ: আল জাজিরা

সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটের হত্যা করা হয়েছে স্বীকার করলেও এখনো তার মৃতদেহের সন্ধান দিতে পারে নি সৌদি। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল যে হত্যার পর খাসোগির মৃতদেহ এসিডে ঝলসে দেয়া হয়েছে। বস্তুত তার মৃতদেহ কী করা হয়েছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে তার মৃতদেহ বড় চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

আল জাজিরা তাদের এক ডকুমেন্টারিতে দাবি করা হয়েছে, ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যার পর কয়েকশ মিটার দূরে আগে থেকে তৈরি করা বড় চুল্লিতে তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।  আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনটি রবিবার রাতে প্রচার করা হয়।

এতে বলা হয়, এজন্য কনসুলেট ভবনের বাইরে একটি বড় চুল্লি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে কিভাবে পোড়ানো হয় সে বিষয়টি মনিটরিং করেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। সেখানে দেখা গেছে কিছু ব্যাগ। ধারণা করা হয়, কনসুলেট ভবনের ভিতরে জামাল খাসোগিকে হত্যার পর তার দেহের বিভিন্ন অংশ এসব ব্যাগে করে ওই চুল্লির কাছে নেয়া হয়েছিল।

ওই চুল্লি নির্মাণকাজে অংশ নেয়া এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেছেন, চুল্লিটি নির্মাণ করা হয়েছে সৌদি কনস্যুলেটের সুনির্ষ্টি নির্দেশনা অনুযায়ী। বলা হয়েছিল, এটি হতে হবে অনেকটা গভীর। আর ভিতরের তাপমাত্রা হতে হবে এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে, যাতে এই তাপে ধাতব পদার্থ পর্যন্ত গুলে যায়।

কর্তৃপক্ষের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জামাল খাসোগিকে হত্যার পর তার দেহের অংশবিশেষ ওভেনে দিয়েও জ্বালানো হয়। এর মধ্য দিয়ে কনসুলেট হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও খাসোগির তুর্কি কিছু বন্ধুর সাক্ষাতকারের ওপর ভিত্তি করে ওই ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে আল জাজিরা। 

গত বছরে ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যার প্রথম অভিযোগ করে তুরস্ক। শুরুতে এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রমাণ প্রকাশ পাওয়ায় খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি। কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিতণ্ডার জেরে তিনি খুন হয়েছেন বলে সৌদির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে খাসোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত তার মৃতদেহের সন্ধান দেয়নি তারা। মনে করা হয়, খাসোগি হত্যার পেছনে হাত রয়েছে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের। তবে খাসোগি হত্যায় রাজ পরিবারের  কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে সৌদি।