Logo

‘বেশি দামে’ এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ

‘বেশি দামে’ এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে, বাংলাদেশ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করছে- এ দাবি জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। তাই গ্যাসের দাম সহনীয় রাখতে এলএনজি আমদানি'র চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি গ্যাস চুরি বন্ধ ও বিতরণ পর্যায়ে অযৌক্তিক ব্যয় কমানোর আহবান জানিয়েছেন তারা। এলএনজির দাম নির্ধারণ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তারা। বিইআরসি বলছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আর শিল্প মালিকদের দাবি, বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক হতে হবে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্যমতে, আগামী ছয় সাত বছরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ। এর মধ্যে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে মেটাতে হবে চাহিদা। এ সংকট নিরসনে মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাময় ব্লকে যথাসময়ে কুপ খনন করা হলে এই গ্যাস সংকট হতো না। বাংলাদেশ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করছে বলেও মনে করেন তারা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা ঠিক হওয়ার পর তারা সেখানে পাঁচটি গ্যাসফিল্ড আবিষ্কার করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ একটিও করতে পারেনি। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে দাবি বিইআরসি'র। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভর্তুকির কথা বলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সিস্টেম লস ও চুরি কমছে না। তাই বিতরণ পর্যায়ে অযৌক্তিক ব্যয় কমাতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে দীর্ঘ মেয়াদে ও ধাপে ধাপে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দাবি জানান শিল্প মালিকরা। বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ কোটি ঘনফুট। ৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজিসহ এই চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।