Logo

বাহরাইনের জালে মেয়েদের ১০ গোল

বাহরাইনের জালে মেয়েদের ১০ গোল

চ্যাম্পিয়নদের মতোই এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বের যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে গোল করেন আনুচিং মোগিনি, শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, ১টি করে গোল করেন আনাই মোগিনি, সাজেদা, শামসুন্নাহার সিনিয়র এবং তহুরা। এদিকে সকালে দিনের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৬-৩ গোলে হারিয়েছে লেবানন। বুধবার লেবাননের মুখোমুখি হবে মারিয়া-তহুরারা। বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২১শে সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচ ২৩শে সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের সঙ্গে।
এদিন বাহরাইনের জালে রীতিমত গোল উৎসবে মেতে ওঠে মারিয়া মান্দা-আঁখি খাতুনরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বাহরাইনের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। যার ফলে এলো বিশাল এই জয়।

বাহরাইনের মেয়েরা কোনো প্রতি আক্রমণই গড়তে পারেনি বাংলাদেশের রক্ষণে। ফলে, পুরোটা ম্যাচই বলতে গেলে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে। দুই বছর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা সেই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াইয়ের মিশনটা শুরু করেছে বেশ ভালোভাবেই। অন্যদিকে দুই ম্যাচ মিলে বাহরাইনের মেয়েরা হজম করলো ১৮ গোল। এদিন ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোলের দেখা মেলে বাংলাদেশের। ডান প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আনাই মোগিনির বাঁকানো শট চলে যায় বাহরাইনের জালে। ১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে বাংলাদেশের কিশোরীরা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মারিয়া মান্ডার চোখ ধাঁধানো শট জড়িয়ে যায় বাহরাইনের জালে। 
১৯ মিনিটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। বক্সের মধ্যে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ছোট ক্রসে আনুচিং মোগিনি ডান পায়ের আলতো টোকায় বল বাহরাইনের জালে পাঠিয়ে দেন। ২৯ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন শামসুন্নাহার। ২৭ ও ৩৫ মিনিটে দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রধমার্ধেই ব্যবধান ৫-০ করে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে পঞ্চম গোল করে কিশোরীরা। আনাই মোগিনির ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড চলে যায় বাহরাইনের জালে। দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৫বার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জালে বল জড়ায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ৫৫ মিনিটে ৬-০ ব্যবধান করেন সাজেদা আক্তার। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের ক্রস খুঁজে নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বদলি ফরোয়ার্ড সাজেদা। ঠান্ডা মাথায় বাহরাইনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এ ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর আবারও গোল। এবারও গোলের যোগানদাতা আঁখি। তার জোরালো শর্ট বক্সের মধ্যে পেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র যে শটটি নিলেন, তা প্রথমে বাহরাইন গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে দারুণ এক শটে জালে জড়িয়ে দেন ছোট শামসুন্নাহার। হয়ে যায় ৭-০। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। ব্যবধান হয়ে যায় ৮-০। এ সময় গোলদাতা শামসুন্নাহারকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেয় বাহরাইনের দানা বাসেম। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু এর প্রতিবাদ করায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাহরাইন। স্পট কিক থেকে গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। ৭২ মিনিটে আবারো দূরপাল্লার শর্টে দুর্দান্ত এক গোল। এবারও দূরপাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া মান্দা। বক্সের বাইরে থেকে বাংলাদেশ অধিনায়কের ডান পায়ের শট পোস্টের কোণ দিয়ে চলে যায় জালে। ব্যবধান দাঁড়ালো ৯-০ গোলের। ব্যবধান ১০-০ গোলে উন্নীত করেন তহুরা। ৮১ মিনিটে সাজেদা বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর বল চলে যায় তহুরার কাছে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান এ ফরোয়ার্ড।