Logo

বাস চালকের লাইসেন্স নেই, ফুটবলারদের নিয়ে নেমে গেলেন কোচ

বাস চালকের লাইসেন্স নেই, ফুটবলারদের নিয়ে নেমে গেলেন কোচ

গত ২৯ জুলাই, রবিবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান শহিদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম। আহত হন ১২ জন। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও গণপরিবহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করাসহ ৯ দফা দাবিতে সাত দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন রাজপথে সোচ্চার ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ির ফিটনেস যাচাই করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট, প্রাইভেট কারের সিটবেল্ট আছে কি না, তাও নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের ওই  আন্দোলনের ফলে কিছুটা হলেও পরিবর্তন এসেছে সড়ক জীবনে। তবে এখনও সেই আগের মতো করেই চলার চেষ্টা চলছে। এই যেমন - ২৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার জাতীয় ফুটবল দলকে বহনকারী বাসচালক নিজের ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রাস্তায় নেমে গিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ খেলে নীলফামারী থেকে বিমানে ঢাকায় ফেরার পর হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ভাড়া করা তুবা লাইনের বাসে উঠেছিলেন কোচসহ ফুটবলারর। ওই বাসের কোনো কাগজপত্রই ঠিক ছিল না। শুধু বাসচালকের লাইসেন্সই নয়, ছিল না বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেটও। এমন অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ আঁটকে দেয় জাতীয় দলের ফুটবলার ও কোচকে বহন করা সেই বাসটি।

পুলিশের চেকিংয়ে বিষয়টা ধরা পড়ার পর ফুটবলারদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যান জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। পরবর্তী সময়ে তারা ট্যাক্সি ও উবারের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছান কোচ-ফুটবলাররা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের চেকিংয়ে বিষয়টা ধরা পড়ে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কোচ জেমি ডে ওই গাড়িতে চড়তে অস্বীকৃতি জানান। পরে ফুটবলারদের নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। এরপর ট্যাক্সি ও উবারে চড়ে ফুটবল দল ফিরে আসে হোটেলে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপুও।

অবশ্য জাতীয় দলের এই ম্যানেজারের দাবি, বাসের মূল কাগজপত্রের ফটোকপি ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোচ দল নিয়ে বাস থেকে নেমে যায়।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয় বাংলাদেশ। নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই ম্যাচটি। খেলা শুরুর আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকা। কিন্তু দর্শকের এই জোয়ারে ভাসতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল দল। স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ হারিয়ে দর্শকদের ফুটবল উন্মাদনা মলিন করে দেয় শ্রীলঙ্কা।