Logo

নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই কংগ্রেস কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই কংগ্রেস কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বুথ থেকে সাকুল্যে চল্লিশ মিটার দূরত্ব, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জনা তিনেক জওয়ান ছায়া খুঁজে নির্বিকার মুখে দাঁড়িয়ে। মঙ্গলবার দুপুরে খুনটা হল তাঁদের চোখের সামনেই। কংগ্রেসকর্মী টিয়ারুল শেখকে (৬৫) পিটিয়ে, হাঁসুয়ার কোপে ক্ষতবিক্ষত করে খুনের পরেও বাহিনীর জওয়ানদের এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।   জেলা জুড়ে গুলি-বোমা রক্তের দাগ ছড়িয়েছিল সকাল থেকেই, মুর্শিদাবাদের চেনা চেহারা যেন সম্পূর্ণ হল ওই খুনের পরেই!    ভগবানগোলা-২ ব্লকের রানিতলার বালিগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গন্ডগোলটা শুরু হয়েছিল সকাল থেকেই। ১৮৮ নম্বর বুথ হয়েছিল স্থানীয় ওই স্কুলে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বালিগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য রেখা বিবির স্বামী কামারুল সকাল থেকেই সেখানে ছাপ্পা ভোট দেওয়াচ্ছিলেন দলীয় কর্মীদের দিয়ে। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা তা নিয়ে বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানালে শুনতে হয়েছিল, ‘হামারা কাম স্রিফ ইভিএম বাঁচানা!’

জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক পি উলাগানাথন অবশ্য বলেন, ‘‘ঘটনাটি হয়েছে বুথ থেকে অনেক দূরে। এবং ওই বুথে এর পরে ভোটও হয়েছে নির্বিঘেœ।’’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই ওই বুথে গন্ডগোলের আঁচ ছিল। বেলা বাড়তে থাকলে তা নিয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তৃণমূলের সমর্থকদের তাড়ায় পালিয়ে যান কংগ্রেস কর্মীরা। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, দুপুরের দিকে ফের ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছু কংগ্রেসকর্মী ওই বুথের সামনে জড় হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিপিএমেরও বেশ কিছু সমর্থক। এই সময়ে দু’পক্ষের ঝগড়া আচমকাই হাতাহাতিতে গড়ায়। তৃণমূলের প্রায় জনা পঞ্চাশ কর্মী রে-রে করে তাড়া করে বিরোধীদের। অন্যরা ছুটে পালালেও বুথের চল্লিশ মিটারের মধ্যেই ধরা পড়ে যান টিয়ারুল। স্থানীয় এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘‘বুথের কাছেই শজনে গাছের ডাল ভেঙে এনে পেটানো শুরু হয় তাঁকে। এই সময়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। আচমকাই কামারুল তেড়ে আসে হাঁসুয়া নিয়ে। তার পরে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে তাঁকে।’’ জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘দুপুরের দিকে হরির লুটের মতো ছাপ্পা পড়তে থাকায় কংগ্রেস-সিপিএম এক যোগে তার প্রতিবাদ জানায়। খবর পেয়েই ছুটে আসেন সেক্টর অফিসার। তবে তিনি ফিরতেই তৃণমূলের কামারুল শেখ দলবল নিয়ে ফেরে। টিয়ারুলকে সামনে পেয়ে শুরু হয় সজনে ডাঁটা দিয়ে পেটানো। আচমকাই কামারুল হাঁসুয়া বার করে তার বুকে পিঠে কোপাতে থাকে। দেওয়ালের গা ঘেঁষে পড়ে যায় টিয়ারুল।’’ তাঁকে স্থানীয় নশিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান ওই কংগ্রেস কর্মী। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুব্রত সাহা অবশ্য বলছেন, ‘‘এটা নিছকই কংগ্রেসের দলীয় কোন্দলের পরিণতি।’’ পুলিশ অবশ্য রাতেই কামারুল, তার শ্যালক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনায় রানিতলা থানায় ছ’জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। লালবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বরুণ বৈদ্য বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও দু’জনের খোঁজ চলেছে।’’ ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা বলছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী আসায় নিরাপত্তা বাড়বে বলে ভেবেছিলাম। দেখলাম তারা তো নিছক ঠুঁটো জগন্নাথ।’