Logo

নতুন কোম্পানি সংশোধনী আইন -২০১৮’র খসড়া অনুমোদন

নতুন কোম্পানি সংশোধনী আইন -২০১৮’র খসড়া অনুমোদন

এক ব্যক্তির মালিকানায় কোম্পানি গঠন ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিভিন্ন বিধান যুক্ত করে কোম্পানি সংশোধনী আইন -২০১৮'র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশোধিত আইনে যৌথ মূলধন কোম্পানি নিবন্ধকের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরসন হয়েছে আইনি জটিলতার। ফলে ছোটখাটো বিষয়ে আর আদালতে যেতে হবে না ব্যবসায়ীদের। শিল্প মালিকরা মনে করছেন, এতে ব্যবসা করা সহজ হবে। বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রত্যাশা বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। মালিকানা নিয়ে অংশীদারদের মধ্যে জটিলতা, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আছে এক ব্যক্তির মালিকানায় কোম্পানি গঠনের সুযোগ। অথচ বাংলাদেশের কোম্পানি আইনে ছিল না এই বিধান। এছাড়া শেয়ার ট্রান্সফার, কোম্পানির গঠনতন্ত্র পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা ছিল ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নিরুৎসাহিত হতো। এসব জটিলতার নিরসনে দীর্ঘ দুই যুগ পর সংশোধন করা হয়েছে কোম্পানি আইন। এতে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ব্যবসা হবে সহজ। জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এন্ড ফার্মসের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন বলেন, 'অনেক দেশে এক মালিকানা কোম্পানি রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ছিল না। এখন আমাদের দেশে এটা চালু হলে মালিকানার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। কোম্পানি আরো বেড়ে যাবে এবং ব্যবসা সহজ হয়ে যাবে। ঋণ, মডগেজ নেওয়া আরো সহজ হবে।' নতুন আইনে রেজিস্ট্রারের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে রিটার্ন দাখিল ও এজিএমের সময় বাড়ানোসহ ছোটখাটো বিষয়ে আর যেতে হবে না আদালতে। এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি এ. কে আজাদ বলেন, 'অর্টিকেল অব মেমরেন্ডমে যদি কোনো সংশোধন আনতে হতো তাহলে হাইকোর্টের অনুমতি এবং প্রচুর সময় লেগে যেত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এজিএম না করলে, পুনরায় উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এজিএম করতে হতো। এখন জয়েন্ট রেজিস্ট্রার বাড়বে এবং ব্যবসা করতে সুবিধা হবে।' আগে কোম্পানির বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখার সুযোগ ছিল না ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর। এছাড়া ছিল স্বার্থের প্রতিকূল অনেক বিধান। বিডার প্রত্যাশা কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার কারণে বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচকে অগ্রগতি হবে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক তৌহিদুর রহমান বলেন, 'ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষ, নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি করা এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কোম্পানি আইনের কারণে আমরা অনেক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরণের উন্নতি হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবে।' ৯৪'র কোম্পানি আইনে মোট ৩৩টি ধারা পরির্বতন করা হয়েছে। কোম্পানির বিলুপ্তি কিংবা একাধিক কোম্পানির একীভূত করার বিষয়টিও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে।