Logo

তামিমের ফের সেঞ্চুরি

তামিমের ফের সেঞ্চুরি

আগের সেই মারকুটে ভাবটা নেই, তাই বলে তামিম ইকবালের ধার কমে যায়নি। ভাটা পড়েনি রানের স্রোতেও। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে তো রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এই ড্যাশিং ওপেনার। শনিবার সেন্ট কিটসের ওয়ানার্র পাকের্ সিরিজ নিধার্রণী তৃতীয় ওয়ানডেতেও সেঞ্চুরি হঁাকিয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তামিমের একাদশ সেঞ্চুরি। লেগস্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর বলে কায়রন পাওয়েলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে যখন সাজঘরের পথ ধরেছেন, তখন তার নামের পাশে জমা ১০৩ রান। তামিমের ওই ইনিংসে ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নিধার্রণী লড়াইয়ে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়তে পেরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এই প্রথম ৩০০ ছাড়ানো পঁুজি বাংলাদেশের। এই প্রথমের মূল নায়ক যদি হন তামিম, তাহলে পাশ্বর্ নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের সূচনায় নেমে সেঞ্চুরি হঁাকিয়ে তামিম যে ভীত গড়ে দিয়েছিলেন, সেই ভীতে দঁাড়িয়ে ৬৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহই বাংলাদেশকে পাড় করিয়েছেন ৩০০ রানের গÐি। ত্রিশোধ্বর্ কাযর্কর দুটি ইনিংস খেলেছেন সাকিব আল হাসান (৩৭) আর ব্যাটিং অডাের্র ওপরে উঠে আসা দলপতি মাশরাফি বিন মতুর্জা (২৫ বলে ৩৬)। তাদের এই ছোট ছোট অবদানগুলো এদিন বাংলাদেশের ইনিংসকে দিয়েছে পূণর্তা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশের আগের সবোর্চ্চ ছিল ২৯২ রান, এদিন সেটিকে পেরিয়ে গেছে মাশরাফির দল। এক সিরিজে দুই সেঞ্চুরি হঁাকানো তামিমও নাম লিখিয়েছেন রেকডের্র পাতায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সবোর্চ্চ রানের মালিক এখন টাইগার ওপেনারই। সিরিজে ২৮৭ রান করেছেন তিনি। আগের সবোর্চ্চ ছিল অস্ট্রেলিয়ার ড্যারেন লেহম্যানের ২০৫। প্রথম দুই ম্যাচেই ১৮৪ রান করা তামিম এদিন লেহম্যানকে পেরিয়ে গেছেন সাত-সকালেই, ইনিংসের দশম ওভারে। এরপর সতীথের্দর আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন। হিসেবি ব্যাটিংয়ে সচল রেখেছেন দলের রানের চাকা। শেষতক ১২৪ বলে ৭টি চার আর ২টি ছক্কায় ১০৩ রান করে থেমেছেন এই ওপেনার। ওয়ানার্র পাকের্ পিচে ভয়ঙ্কর বাউন্স ছিল না। তেমন সুইং পাননি বোলাররা। এরপরও রানের জন্য হঁাসফঁাস করে মরলেন তামিমের ওপেনিংসঙ্গী এনামুল হক বিজয়। অপরপ্রান্তে তামিম অবশ্য সাবলীলই ছিলেন। দলীয় ৩৫ রানে এনামুল ফিরে যাওয়ার পর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ৮১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে শক্ত ভীতে দঁাড় করান তিনি। দ্রæত রান তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হন সাকিব। এরপর উইকেটে আসা মুশফিকুর রহিম আগের দুই ম্যাচের ফমর্টা এই ম্যাচে টেনে আনতে পারেননি। ১২ রান করে আউট হয়েছেন, তামিম তখনো অবিচল। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করলেন। দলের রান যখন ২০০, সেঞ্চুরি পূণর্ করে তামিম তখন তেড়েফুড়ে মারতে গেলেন। বিপত্তিটা বঁাধল সেখানেই। আউট হয়ে ফিরে গেলেন। এরপর উইকেটে এসে দলপতি মাশরাফি ২৫ বলে ৪টি চার আর ১টি ছক্কায় ৩৬ রান করে ছোটখাটো একটা ঝড় তুলে গেলেন। সাব্বিরের ৯ বলে ১২ আর মোসাদ্দেকের ৫ বলে ১১ রানের ইনিংসেও থাকল ঝড়ের আভাস। অন্য প্রান্ত আগলে রাখার সঙ্গে ঝড় তোলে গেলেন মাহমুদউল্লাহও। দলকে ৩০০ পার করিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ৪৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূণর্ করা এই ডানহাতি শেষতক ৫টি চার আর ৩টি ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।