Logo

ডিএসইতে বিনিয়োগ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগেরই অংশ

ডিএসইতে বিনিয়োগ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগেরই অংশ

চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ৯৪৭ কোটি টাকায় (১২ কোটি ডলার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম। এর আগে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের স্টক এক্সচেঞ্জেরও বড় একটি অংশ অধিগ্রহণ করে চীন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটো দেশই চীনের নেতৃত্বে বাস্তবায়নাধীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) অংশগ্রহণ করছে। এমনটাই বলছে চীনের প্রভাবশালী দৈনিক চায়না ডেইলি।

বিদেশী স্টক এক্সচেঞ্জে চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গতকাল একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিকটি। বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট চেয়ার ওয়াং মাওবিনকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরআইয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর এক্সচেঞ্জগুলো আংশিক অধিগ্রহণ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রকল্প বাস্তবায়নকারী তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহে সহায়ক হবে। পাশাপাশি তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেও আরো বাড়িয়ে দেবে।

চীনের এ পদক্ষেপ বৈশ্বিক স্তরে দেশটির উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি আরো জোরালো করবে বলেও মনে করেন ওয়াং মাওবিন। তিনি বলেন, এসব স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে অবকাঠামো, তথ্য, ডিসক্লোজার ও তত্ত্বাবধান-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা যাবে। এর মাধ্যমে ট্রেডিং ব্যয় কমিয়ে আনাসহ ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে উভয় পক্ষই।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ইকোনমি অব স্কেল (উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যয়ের হার কমিয়ে আনা) অর্জন করা সম্ভব। এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যকার সহযোগিতা ও আংশিক অধিগ্রহণমূলক কার্যক্রমের পেছনে বিষয়টি মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। স্টক কেনাবেচার সনাতন ব্যবসার পাশাপাশি আধুনিক এক্সচেঞ্জগুলো এখন ক্রমেই ডেরিভেটিভ (ফিউচার কনট্রাক্ট বা অপশন) লেনদেনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এশিয়ায় বিআরআই প্রকল্পগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এর সবই বেশ সহায়ক হবে, বিশেষ করে এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে যদি সহযোগিতামূলক বিনিময়ের ভালো সম্পর্ক থাকে।

ডিএসইতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছিল ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কয়েকটি স্টক এক্সচেঞ্জও। তবে শেষ পর্যন্ত তারা চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।

বিআরআইয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের এক্সচেঞ্জে চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জরুরি ছিল বলে মনে করেন দেশটির উহান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ফিন্যান্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডং ডেংজিনও। তার মতে, বিআরআই-সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিগুলোসহ বিদেশে চীনের মূলধন ও কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম শুরুর জন্যও চীনা এক্সচেঞ্জগুলোর বিদেশী এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ  এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার হয়ে উঠেছে, তাই দেশটির এক্সচেঞ্জগুলোর বিদেশে স্বার্থ থাকাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

দেশটির পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা কোম্পানিগুলো বিআরআই প্রকল্পে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। চীনা স্টক এক্সচেঞ্জগুলো যদি চীনের বাইরের এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে ভালো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, অথবা তাদের মালিকানার একাংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা স্থানীয় এক্সচেঞ্জগুলোকে কাজে লাগিয়ে এসব প্রকল্পে অর্থায়নে সহায়ক হবে। এসব স্থানীয় এক্সচেঞ্জের বিআরআই প্রকল্পে অর্থায়নের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার সক্ষমতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল। এসব এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ও মানও এক্ষেত্রে প্রধান বিষয়ে। এক্ষেত্রে চীনা স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতা এশিয়ার অন্যান্য এক্সচেঞ্জের জন্য সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া বিদেশী স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় মালিকানা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনা সিকিউরিটি ফার্মসহ কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক প্রভাবকে আরো জোরালো করে তুলবে।

বিআরআই আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মহাদেশীয় পর্যায়ে উন্নীত করা চীনের এক উচ্চাভিলাষী প্রয়াস। এটি ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (ওবিওআর) নামেও পরিচিত। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বিশ্বের ৬৫টি দেশের সঙ্গে চীনের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে তোলা। মোটাদাগে ইকোনমিক করিডোর, বাণিজ্যপথ ও অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়াসকেই বিআরআই বলা হচ্ছে।