Logo

ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ পতনে রুপি

ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ পতনে রুপি

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপি আরও পতনের দিকে যাচ্ছে। অর্থ বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বৃহত্তম দেশটির অর্থনীতি যে শ্লথের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট করছে।

সিএনএনের খবরে বলা হচ্ছে, মুদ্রাবাজারে অস্থির অবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবারও স্থগিত করেছে। এ ঘটনার পর শুক্রবার এক ডলার কেনাবেচা হয়েছে ৭৪ রুপির উপরে। রুপির মানের এই পতন এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে দিনের শেষভাগে রুপির দাম কিছুটা চাঙা হয়।

এ নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। যদিও তারা আশা করছে, তেলের দর বৃদ্ধি এবং রুপির ধসের পরও মূল্যস্ফীতিকে টেনে ধরতে পারবে।

চলতি বছর শক্তিশালী ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ১৫ শতাংশের মতো কমে। যা বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে রুপির সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। 

এদিকে এই দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে সরকার বিদেশিদের জন্য ওয়াশিং মেশিন, ডায়মন্ডস কেনার বিষয়ও সহজ করে দিয়েছে।

রুপির এই পতনে ভুগছে ভারতের পুঁজিবাজারও। গত এক মাসে দেশটির বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স ৮ শতাংশেরও বেশি পতনে নামে।

চলতি বছর ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ শক্ত হয়েছে। শেষ প্রান্তিকে যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ ছুঁয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম এনার্জি আমদানিকারক দেশটি তেলবাজারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যার ফলে দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই তেলের দাম বাড়ছে।

বিশ্বে এখন যে কয়টি দেশকে উদীয়মান বাজার বলা হচ্ছে, তার মধ্যে ভারত একটি। শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতির কাছে দেশটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ রুপির বিপরীতে মার্কিন ডলার ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজার গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্ত অবস্থানে পৌঁছায়। এসময় বন্ডের ইয়েল্ড ছিল সর্বোচ্চ।

এদিন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জ্বালানিতে ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু সূচক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।আমাদের ওপরও সেই প্রভাব পড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য সমস্যা।

এইএসবিসির কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারত প্রবৃদ্ধিতে একটি চমক দেখিয়েছে। কিন্তু এখান থেকে আবারও পেছনের দিকে যেতে হতে পারে।

তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য এখন সুনির্দিষ্ট মাথাব্যথা।