Logo

জুনায়েদ জামশেদ: কিংবদন্তীতুল্য গায়ক থেকে ইসলাম প্রচারক

জুনায়েদ জামশেদ: কিংবদন্তীতুল্য গায়ক থেকে ইসলাম প্রচারক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে বিপুল পরিচিত কিংবদন্তীতুল্য একজন ব্যক্তিত্ব জুনায়েদ জামশেদ। পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পী প্রচলিত ধারায় সঙ্গীত চর্চার সূচনা করেন এবং এই জগতের একজন কিংবদন্তী শিল্পীতে পরিণত হন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার মিউজিক ক্যারিয়ারকে পেছনে ফেলে ইসলাম সম্পর্কে নিবিড় পড়াশোনা শুরু করেন এবং ইসলামের প্রচারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। ২০১৬ সালের ৭ই ডিসেম্বর, এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ইসলামের প্রচারেই নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

মিউজিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করলেও তিনি সঙ্গীতচর্চাকে কখনোই বাদ দেননি। বরং তিনি ইসলামের প্রচারে বক্তৃতা ও লেকচারের পাশাপাশি তার সঙ্গীত প্রতিভাকেও কাজে লাগান এবং হামদ-নাত ও ইসলামী গানের ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেন।

জুনায়েদ জামশেদ ১৯৬৪ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের করাচীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট। প্রকৌশলের ছাত্র হওয়ার পরেও সঙ্গীতের প্রতি তার আকর্ষণের কারণে তিনি পেশাদার সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আর্বিভুত হন। ১৯৮৩ সালে মাত্র উনিশ বছর বয়সে তিনি ‘ভাইটাল সাইনস’ ব্যান্ডের লিড ভোকালিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় একজন সঙ্গীতশিল্পীতে পরিণত হন।

২০০১ সাল থেকে তার চিন্তার জগতে পরিবর্তন ঘটে। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু করেন এবং ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন শুরু করেন।

২০০৪ সালে তিনি সঙ্গীত জগৎ ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেন এবং বাকী জীবন ইসলামের প্রচারে আত্মনিয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

২০০৪ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ইসলামের প্রচারে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন এবং এই লক্ষ্যে বক্তৃতা ও পাবলিক লেকচার প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন প্রকার দাতব্য কাজে নিজেকে যুক্ত করেন।

পেশাগত সঙ্গীত জীবন ত্যাগ করলেও সঙ্গীতচর্চাকে তিনি সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেননি। বরং তিনি তার সঙ্গীত প্রতিভাকেও ইসলামের প্রচারে ব্যবহার করেন। ২০০৫ সালে তার প্রথম ইসলামী গানের অ্যালবাম ‘জালওয়া-ই-জানান’ মুক্তি পায়। এছাড়া পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরো আটটি ইসলামী গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়।

ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কখনোই অসহিষ্ণুতার পরিচয় দেননি। বরং তিনি সকলের সাথেই সমানভাবে মিশেছেন এবং ইসলামী জীবন যাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সাথে মানুষকে যথাসাধ্য বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। তার উদার মানসিকতার জন্য সঙ্গীত ও অভিনয় জগতের তারকারা তার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে মিশতে পারতেন।

২০১৬ সালের ৭ই নভেম্বর, খাইবার-পাখতুনিয়া প্রদেশের চিত্রল থেকে ইসলামাবাদে আসার পথে এক বিমান দুর্ঘটনায় জুনায়েদ জামশেদ নিহত হন।

মৃত্যুর দুই বছর পরেও তার স্মৃতি এখনো সমুজ্জ্বল। ২০১৮ সালে তাকে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ প্রদান করা হয়। পাকিস্তান সহ সারাবিশ্বে তার ভক্তরা আজও তার গানের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করেন।