Logo

চার বছরেও ল্যান্ডিং রাইটস নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি

চার বছরেও ল্যান্ডিং রাইটস নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি

কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে স্যাটেলাইট সেবাদানের জন্য অনুমতি (ল্যান্ডিং রাইটস) নিতে হয়। দেশেও বিদেশী বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের কার্যক্রমও চালু হয়েছে। অথচ ২০১৪ সালে উদ্যোগ নেয়া হলেও গত চার বছরে স্যাটেলাইট ল্যান্ডিং রাইটস নীতিমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্যাটেলাইট মহাশূন্যে স্থাপনের পর সেটির কভারেজের আওতায় একাধিক দেশের অবস্থান থাকতে পারে। এক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেবাদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে সেবা প্রদানের অনুমতি নিতে হয়, যা ল্যান্ডিং রাইটস নামে পরিচিত। এ অনুমতিপত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থসম্পর্কিত বিভিন্ন শর্ত, চুক্তি, দায়বদ্ধতা ও ফিসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকে। আর ল্যান্ডিং রাইটসবিষয়ক নীতিমালার ভিত্তিতে এগুলো নির্ধারণ করা হয়। তবে দেশে এখনো এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে সেবা দিচ্ছে বিদেশী স্যাটেলাইটগুলো। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে— টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ব্যান্ডউইডথ ও টেলিযোগাযোগ।

স্যাটেলাইট ল্যান্ডিং রাইটস নিয়ন্ত্রণ ও ফি নির্ধারণের জন্য নীতিমালা তৈরিতে ২০১৪ সালের মার্চে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আট সদস্যের কমিটি গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তী সময়ে আহ্বায়কের মৃত্যু ও একজন সদস্যের কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে গত বছরের মে মাসে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত কমিটির আকার হয় ১০ সদস্যের। আগের তিন বছরে নীতিমালাটি তৈরির কার্যক্রম না এগোলেও পুনর্গঠিত কমিটি বেশকিছু কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

তবে নীতিমালা তৈরি, ফি ও চার্জ নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডকে (বিসিএসসিএল) সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্প্রতি বিবেচনায় নেয়া হয়। এজন্য ল্যান্ডিং রাইটস নীতিমালা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিসিএসসিএলের একজন করে প্রতিনিধিকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১১ মে দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উেক্ষপণ হয়। স্যাটেলাইট উেক্ষপণে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ফ্যালকন ৯ রকেটের সর্বশেষ সংস্করণ ব্লক ৫। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এ স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার, যার ২৬টি কেইউ ব্যান্ডের ও ১৪টি সি ব্যান্ডের। ট্রান্সপন্ডারের ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। আর বাকিগুলো বাণিজ্যিকভিত্তিতে ভাড়া দেয়া হবে। ভুটান ও নেপাল ছাড়াও কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তানের মতো এশিয়ার অন্য দেশে তা ভাড়া দেয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু-১ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডকে (বিসিএসসিএল)।

দেশে এরই মধ্যে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা চালু হয়েছে। এজন্য বিদেশী স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে ডিটিএইচের লাইসেন্স পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান। এশিয়া ব্রডকাস্ট স্যাটেলাইট (এবিএস) গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বেক্সিমকো। আর ডিটিএইচ লাইসেন্স পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠান বায়ার মিডিয়া লিমিটেড স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে নিউ স্কাইস স্যাটেলাইটসের সঙ্গে চুক্তি করে। অস্থায়ী ভিত্তিতে স্যাটেলাইট ডাউনলিংক তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য ডিটিএইচ লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ডলার। শর্তসাপেক্ষে এ অনুমতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্যাটেলাইটের ল্যান্ডিং রাইটসবিষয়ক নীতিমালা চূড়ান্ত হলে সে অনুযায়ী ফি ও অন্যান্য চার্জ প্রদান করতে হবে।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ল্যান্ডিং রাইটস নির্ধারণ করা না হলে বিদেশী স্যাটেলাইট অপারেটরদের অবৈধভাবে সেবাদানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দেশ এ খাতে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইটেরও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া চললেও এটি চূড়ান্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।