Logo

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও আমাদের অবস্থান

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও আমাদের অবস্থান

বিশ্বে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে শোরগোল চলছে। প্রথম শিল্প বিপ্লব ছিল ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় ৮০ বছরব্যাপী। রেল রাস্তা, বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার ও উৎপাদনে যন্ত্রের ব্যবহার এ বিপ্লবের বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব উনিশ শতকের শেষার্ধে শুরু হয়ে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চলেছিল। তড়িৎ ও অ্যাসেম্বলি লাইনের মাধ্যমে ব্যাপক (মাস) উৎপাদন এ বিপ্লবের অবদান। তৃতীয় শিল্প বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬০ সালে। এটাকে কম্পিউটার বা ডিজিটাল বিপ্লবও বলা হয়। সেমিকন্ডাক্টর, মেইন ফ্রেম কম্পিউটার (১৯৬০), পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটার (১৯৭০-১৯৮০) ও ইন্টারনেট এ বিপ্লবের ধারক। ক্ষুদ্র ও শক্তিশালী কিন্তু সস্তা সেন্সর, মোবাইল ইন্টারনেট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং চতুর্থ বিপ্লবের ভরশক্তি। আগের বিপ্লবগুলোর তুলনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে কিছু গুণগত পার্থক্য আছে। এ বিপ্লবে মেশিনকে বুদ্ধিমান করা হচ্ছে। অন্য বিপ্লবে যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে মানুষ। চতুর্থ বিপ্লবে যন্ত্র নিজেই নিজেকে চালানোর সক্ষমতা অর্জন করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করা হচ্ছে। মানুষের মস্তিষ্কের চেয়ে যন্ত্রের ধারণক্ষমতা অনেক বেশি এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা অনেক দ্রুত। তাই গত্বাঁধা ব্যাপারগুলোয় যন্ত্র অনেক নিখুঁত ও দক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ইন্টারনেটের কারণে তার কার্যক্রমের আওতা অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশে বসে একটি বুদ্ধিমান কম্পিউটার আমেরিকার একটা যন্ত্রকে আদেশ দিতে পারে, ইথিওপিয়ার একটা ঘরের তাপমাত্রা মেপে আদেশ দিতে পারে তাপমাত্রা বাড়ানো বা কমানোর

বাংলাদেশের ওপর প্রভাবস্মার্ট যন্ত্র বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাতে। আমাদের গার্মেন্ট খাত শ্রমনির্ভর। প্রায় ৬০ লাখ লোক কাজ করে এ খাতে। রোবট ও স্মার্ট যন্ত্রের ব্যবহারে শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে যাবেন। শুধু গার্মেন্ট নয়, আরো অনেক পেশা, যেগুলো গত্বাঁধা, পৌনঃপুনিক, যেমন হিসাবরক্ষক, আইন পরামর্শক, পরীক্ষক, রেস্টুরেন্টে সেবা প্রদানকারী ক্যাশিয়ার ইত্যাদি পেশা বিলুপ্ত হবে বা কমে যাবে। ড্রাইভারবিহীন গাড়ি চালু হলে ড্রাইভারের চাকরিও অপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে কিছু পেশার প্রয়োজন, যেমন নার্স, সেলস এক্সিকিউটিভ, যেসব সেবায় মানবিক ছোঁয়া আছে বা যেসব সেবা গত্বাঁধা নয়, সেসব সেবা দিতে মানুষের প্রয়োজন ফুরাবে না। অন্যদিকে মেধাভিত্তিক পেশার প্রয়োজন বাড়বে যেমন প্রোগ্রামার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, আইওটি ইত্যাদিতে দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়বে। আমাদের দেশে দক্ষ প্রোগ্রামারের অনেক অভাব। বুয়েট, আইইউটি থেকে যারা পাস করেন বা যারা ভালো প্রোগ্রামার, তাদের অধিকাংশ বিদেশে চলে যান।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পরিবর্তন হবে খুব দ্রুত। কেউ কোনো উদ্ভাবন নিয়ে দ্বিধায় থাকলে তার স্থান অন্য কেউ দখল করে নেবে। অধিকাংশ উদ্ভাবনী ব্যবসার ব্যাপারে ‘এখনই অথবা কখনই না’ ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটবে খুব দ্রুতগতিতে। নতুন প্রযুক্তি বয়ে আনবে আরো নতুন প্রযুক্তি। এখনকার উদ্ভাবন গাণিতিক নয়, জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। পরিবর্তনের প্রস্থ ও গভীরতা অনেক ব্যাপক। এ বিপ্লব তৃতীয় বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। বিভিন্ন প্রযুক্তিকে সংযুক্ত করছে। পরিবর্তন আনছে অর্থনীতি, সমাজ, ব্যবসা ও ব্যক্তিজীবনে। যন্ত্রগুলো পরস্পর কথা বলবে, জানবে পরিস্থিতি কী, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। মানুষ সরলরেখায় চিন্তা করতে অভ্যস্ত। চতুর্থ বিপ্লব উল্লম্ফন আশা করে। আমরা বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ বিপ্লবের প্রভাব মানবসভ্যতার ওপর অনেক গভীর ও ব্যাপক। এটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিতে পারে। পক্ষান্তরে মানবজাতি বিলুপ্তও হয়ে যেতে পারে।

যেসব দেশের কাছে পুঁজি থাকবে, তারা গবেষণায় ব্যয় করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবে। ধনী ও গরিব দেশের পার্থক্য বেড়ে যাবে। কাজগুলো ভাগ হয়ে যাবে— অদক্ষ-স্বল্প বেতন ও অতি দক্ষ-অধিক বেতন, এ শ্রেণী বিভাগে।

দেহে স্থাপিত প্রযুক্তিআজকাল শরীরে পরিধেয় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়েছে, যা শরীরের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ করে; যেমন তাপমাত্রা, রক্তচাপ, পালস, রক্তে শর্করা ইত্যাদি। এ উপাত্তগুলো কম্পিউটার ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। যন্ত্র পরিধান করাটা ঝামেলাপূর্ণ। একই কাজে তাই শরীরে চিপস অনুপ্রবেশ করিয়ে রেখে দেয়ার প্রযুক্তি বেরিয়েছে।  মানুষের শরীরে পেসমেকারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। ভবিষ্যতে শরীরে স্থাপিত চিপস স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, চিপসের মাধ্যমে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। অবশ্য চিপসের কারণে মানুষের ব্যক্তিজীবন বা গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন বা নস্যাৎ হবে।

চশমায় মনিটরগুগল গ্লাস সীমিত আকারে কম্পিউটারের মনিটরের কাজ করছে। আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের রোগীর সঙ্গে কথোপকথন লিপিবদ্ধ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। ডাক্তাররা নিজে সেই কথোপকথন কম্পিউটারে লিখতেন। অগমেডিক্স নামীয় সিলিকন ভ্যালির একটি প্রতিষ্ঠান গুগল গ্লাসের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে রোগীর কথোপকথন বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটে পাঠিয়ে দেয়; যা এখানে বসে ইংরেজি জানা কোনো যুবক বা যুবতী লিপিবদ্ধ করছেন। ডাক্তার নিরবচ্ছিন্নভাবে রোগী দেখতে পারছেন। সপ্তাহে গড়ে ১৫ ঘণ্টা সময় বেঁচে যায়, যে সময় অধিক রোগী দেখতে পারেন বা পরিবারকে দিতে পারেন। চশমা ধীরে ধীরে মনিটরের স্থান দখল করে নেবে। কম্পিউটার আর বাইরের কিছু নয়, শরীরের একটি অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে।

থ্রিডি প্রিন্টিংমডেল বা ডিজাইনের ওপর পরতের পর পরত বসিয়ে কোনো জিনিস প্রস্তুত প্রণালি হলো থ্রিডি প্রিন্টিং। এর মাধ্যমে কোনো জটিল যন্ত্রপাতি ছাড়াই জটিল বস্তু (যেমন প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, সিরামিক, স্টিল ইত্যাদি) তৈরি করা যায়। আগে যে জিনিস তৈরি করতে গোটা একটা কারখানার প্রয়োজন হতো, তা এখন একটা প্রিন্টিং মেশিনে তৈরি করা সম্ভব। এতে জিনিসপত্র তৈরি ত্বরান্বিত হবে। ‘নকশা থেকে তৈয়ার’-এর চক্র ছোট হবে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প থ্রিডি প্রিন্টারে অনেক জিনিস নিজেরা তৈরি করতে পারবে। পরিবহন ব্যয় কমে যাবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাবে।

পরিধেয় ইন্টারনেটপোশাকে আজকাল যন্ত্রপাতিতে চিপস ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা, ঘামের পরিমাণ দেখে স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা দিতে পারে। মানুষও পোশাকে ঘষা দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে বা পেতে পারে।

আইওটিকম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়ছে আর দাম কমছে। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে (ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি) সেন্সর বা চিপস ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে বার্তা পাঠাতে পারছে। এটা ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি। উন্নত বিশ্বে আইওটি নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। আপনি যখন গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, আপনার গাড়ি বাসার এসির কাছে মেসেজ পাঠাবে। এসি নির্দিষ্ট সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, যাতে আপনি যখন ঘরে প্রবেশ করবেন, আপনার পছন্দসই তাপমাত্রা পাবেন। আপনার গৃহকর্মী রোবট ফ্রিজ থেকে নাশতা নিয়ে মাইক্রোওভেনে গরম করে রাখবে। ফ্রিজ তার ভেতরে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী স্ক্যান করে, আপনার খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে, অনলাইনে ই-কমার্সে অর্ডার প্রদান করে দেবে। এমনকি পশুর শরীরে চিপস স্থাপন করা হচ্ছে। এতে গবাদিপশুর শারীরিক অবস্থা, রোগ, প্রজননকাল ইত্যাদি আগেভাগে জেনে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া যাবে। 

বিগ ডাটাডিজিটাইজেশনের কারণে এখন প্রচুর ডাটা উত্পন্ন হচ্ছে। আমরা কোথায় যাচ্ছি, কোথায় কতক্ষণ সময় ব্যয় করছি, তার উপাত্ত আমাদের স্মার্ট গাড়ি পাচ্ছে। আমাদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ওয়ালেট, ক্রেডিট কার্ড মিলে আমাদের খরচের হিসাব দিতে পারে। আমরা কী দেখছি তা স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভির কাছে উপাত্ত আছে। এসব উপাত্ত আগে সংরক্ষণ করা যেত না। এখন ক্লাউডে সংরক্ষণ করা সহজ ও স্বল্প ব্যয়ের। দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার কারণে কম্পিউটার এসব ডাটা সহজে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

ড্রাইভারবিহীন গাড়িউন্নত বিশ্বে ড্রাইভারবিহীন গাড়ি নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রাইভারবিহীন গাড়ি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও দক্ষ হবে। এছাড়া এরা ট্রাফিক জ্যাম ও দূষণ কমাবে। আমাদের দেশের অনেক ড্রাইভার চাকরি হারাবেন। বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকম্পিউটারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ডাটা বিশ্লেষণ করে এআই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কম্পিউটারকে প্রথমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যেমন একটি বিড়াল দেখতে কেমন। বিড়ালের কয়েক লাখ ছবি দেখানো হয়। কম্পিউটার একটা প্যাটার্ন আন্দাজ করতে পারে। ফলে পরবর্তীতে রঙ, সাইজ, ভঙ্গিভেদে কম্পিউটার বিড়াল চিনতে পারে।

ব্লক চেইন ও বিট কয়েনবর্তমানে কোনো লেনদেন হলে তা লেজার বা খতিয়ানে লিপিবদ্ধ থাকে। এ লেজার কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ব্লক চেইনে লেজারটি ছড়িয়ে দেয়া হয় সব অংশগ্রহণকারীর মধ্যে। ফলে কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না, কারণ সবার কাছে লেজার আছে। একেকটা লেনদেন একটা ব্লক তৈরি করে। সেটা আগের ব্লকের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে একটা চেইন তৈরি করে। ব্লক চেইনে শুধু আর্থিক লেনদেন নয়; চুক্তি, জমির দলিলসহ বিনিময়ের রেকর্ড থাকতে পারবে। ব্লক চেইন প্রবর্তিত হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অনেক কাজ কমে যাবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। উন্নত বিশ্বে ব্লক চেইন, এআই, রোবোটিকস, ড্রাইভারবিহীন গাড়ি, থ্রিডি প্রিন্টিং নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। এসবের প্রভাব আমাদের দেশে পড়বে। এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে আমাদের একমাত্র প্রস্তাব— সস্তা শ্রম। রোবোটিকস, এআইয়ের কারণে আমাদের এ সুবিধা বেহাত হয়ে যাবে। অন্যদিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ডাটা অ্যানালিস্টসহ কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন লোকের চাহিদা বাড়বে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রচুর এমবিএ তৈরি করছে। এদের কোথায় স্থান হবে? মানও তেমন উন্নত নয় যে বিশ্ববাজারে বিপণনসহ বিভিন্ন পেশা, যেখানে মানবিক গুণাবলি প্রয়োজন, সেখানে জায়গা করে নেবে। এ যেন বিশ্বের প্রয়োজন গোলকের, আর আমরা তৈরি করছি চৌকোনা জিনিস। হায়, ধুন্ধুমার বিশ্বব্যাপী গোলকযুদ্ধের ময়দানে আমরা আমাদের বেঢপ চৌকোনা জিনিস নিয়ে কী করব?