Logo

উপজেলা নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত শতাধিক প্রার্থী

উপজেলা নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত শতাধিক প্রার্থী

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেতে যাচ্ছেন শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এর মধ্যে অর্ধশতাধিকই উপজেলা চেয়ারম্যান।

ভোটের মাঠে লড়াই ছাড়াই একক প্রার্থী হিসেবে তারা জয় পেতে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রথম ধাপে ৩০ জন, দ্বিতীয় ধাপে অন্তত ২৫ জন, তৃতীয় ধাপে ২১ জন এবং বাকিরা চতুর্থ ধাপে একক প্রার্থী হয়েছেন। আইন অনুযায়ী তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় একক প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া এবার দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় এ নির্বাচনে সার্বিকভাবে প্রার্থী সংখ্যা কমে এসেছে বলেও মনে করেন তারা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ধাপে এবার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে চারটি ধাপে ৪৫৯টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার চতুর্থ ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে।

বাকি দুই ধাপের নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কতজন নির্বাচিত হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে সেই পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান জয়ের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, কোনো উপজেলায় নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকলে আইন ও বিধি মেনে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

আমরাও তাই করছি। উপজেলা নির্বাচনে কতটি দল অংশ নেবে, কতজন প্রার্থী হবেন তা আমাদের বিষয় নয়। তিনি বলেন, আমরা দেখছি কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে কি না। বাধার মুখে কেউ প্রার্থী হতে পারেননি- এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০ মার্চ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোটের আগেই ১৬ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৫ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সব মিলিয়ে ৩০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের পদ ছাড়া বাকিগুলোয় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদগুলোয় ওইদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৮৬টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ২৮৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

দাখিলের দিনই চারজন উপজেলা চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস চেয়ারাম্যান ও ২ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান একক প্রার্থী ছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল এবং বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় ওই সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়ায়।

জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে ১২৪টি উপজেলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওই দিনই ২০ জন একক প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ৫টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও ৬টি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। ওই দিনই পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পরিষদের সবকটি পদেই একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

আরও জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৪৮৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৭৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৬৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি এ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেননি। ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের ১২৭টি উপজেলায় ২১ জন একক প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ১০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৬ জন। এ ধাপেও চারটি উপজেলা পরিষদের সবকটি পদেই একক প্রার্থী হয়েছেন।

সেগুলো হচ্ছে- বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ও নরসিংদীর পলাশ। এ ধাপের নির্বাচনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।

তারা জানান, চেয়ারম্যান পদে ৪৭৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭২৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৬১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, সোমবার চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। এদিনও দেশের বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেশ কয়েকজন একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নিয়ম অনুযায়ী, তারাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

সোমবার বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু তাহের হাওলাদার একক প্রার্থী হয়েছেন। ফেনীর তিনটি উপজেলায় একক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- সোনাগাজী উপজেলায় জহির উদ্দিন মাহমুদ, দাগনভূঞায় দিদারুল কবির রতন ও পরশুরাম উপজেলার কামাল মজুমদার।

তারা সবাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এছাড়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে জয় পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের হারুনার রশিদ হীরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর একই দিনে ৪৭৫টি উপজেলায় এ নির্বাচন হয়। ২০১৪ সালে ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়। এবার পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।