Logo

ইলিশের চেয়ে ক্রেতা বেশি

ইলিশের চেয়ে ক্রেতা বেশি

দুপুর সাড়ে ১২টা। সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে নৌকাতে করে উপকূলে ভিড়তে শুরু করে জেলেরা। সেসময় পাল্লা দিয়ে বাড়ে মানুষের জটলাও। সবাই ইলিশ কিনতে ভিড় করে সেখানে। যত ক্রেতা দেখা গেল ঠিক সে পরিমাণ ইলিশ জেলেদের আনতে দেখা যায়নি। ফলে দামও বেশি হাঁকছে জেলেরা। 

গতকাল বুধবার এমন চিত্র দেখা গেলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায়।  

জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। সন্দ্বীপ চ্যানেলে প্রচুর স্রোতে আশানুরূপ ইলিশের দেখা নেই। অনেক জাল ফেটে নষ্ট হচ্ছে। ফলে জাল তুলে নিয়ে আসতে হচ্ছে জেলেদের। মাছ ধরার পর পাড়ে আসলে দেখা যায় ইলিশ মাছের থেকে ক্রেতার সংখ্যাই বেশি থাকে।   

এদিকে বেশি ইলিশ ধরা না পড়ায় বরফ বিক্রেতারাও পড়েছে বিপাকে। তাদের সংরক্ষণে থাকা বরফ বিক্রি না হওয়ায় গলে  যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি নৌকা খালে ঢুকলে খুচরা ক্রেতা ও পাইকাররা ঝাঁপিয়ে পড়ছে নৌকার দিকে। কোনও কোনও নৌকায় ছোট ছোট টুকরিতে ৩০ কেজি কিংবা তার কাছাকাছি ইলিশ দেখা গেছে। 

সাগর ফেরত কুমিরা এলাকার জেলে রুবেল দাশ বলেন, তার ১০টি জালে মাত্র ১৮ কেজি মাছ পেয়েছেন। গত বছর এ দিনে কমপক্ষে তিন মণ(১২০ কেজি) মাছ পেয়েছিলেন। অপর জেলে রুহি দাশ বলেন, ২০টি জাল বসাতে দুই লাখ টাকা খরচ করেছেন। ছয়জন শ্রমিক আছে মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনে। মৌসুম শেষ এখন পর্যন্ত মাছ বিক্রি করেছেন এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করবেন সে চিন্তায় আছেন তিনি। 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। উৎপাদন ছিল এক হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০ মেট্রিকটন। গতকাল পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬৮০ মেট্রিকটনের কাছাকাছি।

পাইকার ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, গতকাল তিনি ছোট-বড় ছয় মণ (২৪০ কেজি) মাছ কিনেছেন। ছোট ইলিশ কেজি পড়েছে ১২০ টাকা, মাঝারি ধরণের (৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম) ইলিশ মণে পড়েছে ৭-৮ হাজার টাকা, বড় ইলিশ মণে পড়েছে (৬০০ গ্রামের বেশি এক হাজার ২০০ গ্রাম) ১৬-২৬ হাজার টাকা, তার চেয়ে বড় ইলিশ ৬০-৯০ হাজার টাকা মণ। 

কুমিরা এলাকার বরফ বিক্রেতা মুজিবর রহমান বলেন, ৮০ কেজি ওজনের একটি বরফখণ্ড বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০টি। অথচ গত বছর এদিনে বিক্রি হয়েছে ২০০টি বরফখণ্ড। গত বছরে বরফ বিক্রি বেশি হয়েছে বলে এবছর স্টোর করেছেন বেশি। এখন বিক্রি হচ্ছে না। বরফ গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন সন্দ্বীপ চ্যানেলে এবার স্রোত বেশি। ফলে গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ ইলিশ কম ধরা পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ ইলিশ কম ধরা পড়বে সীতাকুণ্ডে। 

তবে সীতাকুণ্ডের উত্তরাংশের তুলনায় দক্ষিণাংশে তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। সেখানে কোনও কোনও নৌকায় একদিনে ছয় থেকে সাত মণ ইলিশ পেয়েছে বলেও জানান তিনি।