Logo

আনসারের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা ‘ঘুষ আদায়’

আনসারের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা ‘ঘুষ আদায়’

সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যদের পারিশ্রমিকের টাকা নিতে কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় দায়িত্বরত ৩২ হাজার ১২৪ জন আনসারের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে কমপক্ষে এক কোটি ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরিশালের উপপরিচালক বরাবর আনসার সদস্য জাহিদুল ইসলাম গত ৮ জানুয়ারি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি আসনে এবার ভোটকেন্দ্র ছিল দুই হাজার ৬৭৭টি। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন আনসার সদস্য এবং দুজন গ্রুপ কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসাবে বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৩২ হাজার ১২৪ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত (কমান্ডার বাদে) ছিলেন। নির্বাচনকালীন ছয় দিন ডিউটি হিসাব করে প্রত্যেক আনসারের জন্য চার হাজার ৫৭৫ টাকা এবং গ্রুপ কমান্ডারদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার ৫৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভোটের ছয় দিন পর গত ৬ জানুয়ারি এই টাকা বিতরণ করা হয়।

জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্য ছিলেন নয় হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে বরিশাল সদর আসনে ১৭৪টি কেন্দ্রের দুই হাজার ৮৮ জন আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৪০০ টাকা হারে আট লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন উপজেলা কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন। এর মধ্য থেকে ১০০ টাকা নিয়েছেন গ্রুপ কমান্ডাররা। বাকি টাকা আফজাল হোসেন এবং অন্য কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছেন।

বিভাগের বাকি পাঁচটি জেলায় একইভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বনিম্ন ৪০০ এবং সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

মুলাদী উপজেলার আনসার গ্রুপ কমান্ডার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘নির্বাচনের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে আমাদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছেন আনসার অফিসের কর্মকর্তারা। ওই টাকা থেকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়েছে গ্রুপ কমান্ডারদের। ৬ জানুয়ারি আমাদের ছয়দিনের পারিশ্রমিক হিসেবে চার হাজার ৫৫৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে গ্রুপ কমান্ডাররা পেয়েছেন পাঁচ হাজার সাত টাকা।’

বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদের বাসিন্দা আনসার সদস্য জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এভাবে বিভাগের ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনায় দায়িত্বরত আনসারদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন। এরপর তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আংশিক সত্য। তবে আমি টাকা তুলেছি, এ কথা ঠিক নয়। অফিসের অন্য কেউ হয়তো কাজটি করেছেন। তাদের দায় আমার ওপর এসে পড়েছে। আমি হার্টের রোগী। দয়া করে এ নিয়ে লেখালেখি করবেন না।’

বরিশাল আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বেশির ভাগ সদস্য গ্রামের দরিদ্র মানুষ। তাদের খ-কালীন নিয়োগ দেওয়া হয়।

১০ দিন মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রত্যেককে সাড়ে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই আমরা উপজেলা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছি, যাতে এই গরিব মানুষদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়া না হয়। কিন্তু তার পরও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আমার কানে এসেছে।’