Logo

অস্ত্র ও মাদক মামলায় রিমান্ডে আইটি বিশেষজ্ঞ শামীম!

অস্ত্র ও মাদক মামলায় রিমান্ডে আইটি বিশেষজ্ঞ শামীম!

আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত নাসির উদ্দিন শামীমের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। বুধবার (১০ অক্টোবর) সকালে তাকে আদাবর থানায় হস্তান্তর করার পর পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার (৮ অক্টোবর) রাতে আদাবরের শেখেরটেকের ৮ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন। সেসময় র্যা বের পক্ষ থেকে তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।
বুধবার সকালে আদাবর থানায় র্যা ব-২-এর সিপিসি-১-এর সুবেদার মোকছেদ আলম বাদী হয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে একটি মামলা (নম্বর ৯) দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে সোয়া ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন মুনসুরাবাদ ১১ নম্বর রোডের জামালের মোটর গ্যারেজের সামনে থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, র‌্যাব সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে শামীম নিজের কাছে থাকা ইয়াবার দুটি প্যাকেট দেওয়াল দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় ফেলে দেয়। পরে শামীমের দেখানো একটি প্যাকেট থেকে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ আমেরিকার তৈরি ৭.৬৫ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, র্যা বের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই ) হাবিব তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উপপরিদর্শক হাবিব জানান, একটি অস্ত্র ও ৫৩ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাব তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শামীমের স্ত্রী শারমিন রাবেয়া ও ছোট ভাই আমিনুল হক শাহিন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাবের পোশাক পরা ১০-১২ জন বাসায় এসে শামীমকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা শামীমের ল্যাপটপ, সিপিইউ, আইপ্যাড ও মোবাইল নিয়ে যায়। কিন্তু এখন মামলায় বলছে যে, মনসুরাবাদ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অস্ত্র ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। কিন্তু এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
শামীমের কাছে অস্ত্র ও ইয়াবা থাকতে পারে তা তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাদের ধারণা, কোনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়েছে।
শামীমের স্বজন ও বন্ধুরা জানান, নাসির উদ্দিন শামীম আগে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এমনকি ‘দেবস টিম’ নামে নিজেও একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ড পানও তিনি। ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট হিসেবে তার খ্যাতি আছে। বেসিস ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে শামীম ফ্রিল্যানসার হিসেবে ঘরে বসেই আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
বন্ধু ও স্বজনরা জানান, শামীম সিগারেট পর্যন্ত খান না। সেই ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসা করবেন বা অস্ত্র নিয়ে ঘুরবেন— এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষ দশ ধনী নিয়ে একটি ‘ফেজবুক পোস্ট’ শেয়ার করায় একটি পক্ষ তাকে ফাঁসিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।