Logo

অবসানের পথে আফগানিস্তানে তালেবান সংকট?

অবসানের পথে আফগানিস্তানে তালেবান সংকট?

কাতারে ছয়দিন আলোচনার পর কাবুল যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় বসে আফগান সংকট নিরসনের চেষ্টা করবেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় দেশটিতে সতের বছর ধরে চলা সংকটের অবসানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত।

এ নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি আফগান সমস্যার সমাধান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খালিলজাদ । তবে তিনি কাতারে ছয় দিন ধরে চলা আলোচনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে একে অতীতের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ দাবি করেছেন।

এখন তিনি কাবুলে গিয়ে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে তালেবানদের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছিল যে উভয় পক্ষ সমঝোতার একটি খসড়া তৈরি করেছে। ওই সমঝোতায় বলা হয়েছে- আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আল-কায়েদা ও আইএস আফগানিস্তানে ঘাঁটি বানাতে পারবেনা।

খালিলজাদ জানিয়েছেন, তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা চলবে এবং কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, সরাসরি আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয় তালেবান। যাদের তারা ‘পুতুল’ মনে করে। তালেবান জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা তখনই শুরু হবে যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহারের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে।

তালিবান সূত্র উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আফগানিস্তান থেকে বিদেশী বাহিনী প্রত্যাহারের কাজ ১৮ মাসের মধ্যে শুরু করা। এর বিপরীতে তালেবান নিশ্চয়তার আশ্বাস দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি বানাতে পারবেনা আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেট।

এছাড়া বন্দি বিনিময়, তালেবান নেতাদের কয়েকজনের ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দু’পক্ষ একমত হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ইতোমধ্যে বলেছেন তালিবানকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে যদি তারা যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করে ও দেশের সংবিধান মেনে নেয়।

গত ডিসেম্বরেই খবর বেরিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে অন্তত সাত হাজার সৈন্য সরিয়ে নিতে চায়। এটি সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট সৈন্যের প্রায় অর্ধেক।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯০ এর দশকে সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবানের উত্থান ঘটে আফগানিস্তানে। তালেবান জঙ্গীরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশটিকে শাসন করে এবং এসময় তারা শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়। এর ফলে নারীদের প্রকাশ্য কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায় ও চালু হয় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের মতো বিষয়গুলো।

৯/১১ এর ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী তাদের উৎখাত করে। ওয়াশিংটন তখন যুক্তরাষ্ট্রে হামলাকারী আল কায়েদাকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ তোলে তালিবানের বিরুদ্ধে। পরে ২০১৪ সালে বিদেশী বাহিনীর বড় অংশ আফগানিস্তান থেকে চলে গেলে তালেবান আবার সংঘটিত হতে শুরু করে। মনে করা হচ্ছে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করে।