Logo

অন্ত্র ও মলাশয়ে ক্যান্সার

অন্ত্র ও মলাশয়ে ক্যান্সার

কোলন বা অন্ত্র এবং রেকটাম বা মলাশয়ে যে ক্যান্সার হয় তাকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার বলে। বর্তমানে এ অঙ্গের ক্যান্সারের সংখ্যা পৃথিবীব্যাপী বেড়ে যাচ্ছে। বংশগত বা জিনগত কারণে সাধারণত অল্প বয়সে এ ক্যান্সার হতে পারে। সাধারণত ৪০ বছরের পর হয়।

আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। উচ্চমাত্রায় চর্বি বিরিয়ানি বা তৈলাক্ত খবার আমরা বেশি খাচ্ছি পক্ষান্তরে আঁশযুক্ত খাবার কম খাচ্ছি। এটি স্ক্রিনিং বা নির্ণয়ের জন্য কোলনস্কপি করা হয়। উপসর্গের মধ্যে পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া অন্যতম লক্ষণ।

অনেকদিন ধরে ডায়রিয়া বা লুজ মোশন এ ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে গেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের কথা ভাবতে হবে। ডায়াগনোসিস হলে এ, বি, সি ও ডি- এ চার স্টেজে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হয়। এ, বি, ও সিতে অপারেশন লাগে।

ডিতে সার্জারির আগে কেমো-রেডিয়েশন করতে হয়। এ বাডায়ল ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ অঙ্গের পলিপ থেকে ক্যান্সার হতে পারে। তাই এ পলিপকে রিমুভ করতে হবে।

স্টেজ এ হলে ১০০ ভাগ নিরাময়যোগ্য, পক্ষান্তরে স্টেজ-ডিতে প্রায় ৪০ ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে যায়। পেটের ডান দিকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হলে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। এ ক্যান্সারের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কোনো প্রভাব নেই। পাইলস থেকে কখনও ক্যান্সার হয় না।

তবে ৩ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে পাইলস ও ক্যান্সার একসঙ্গে হয়। এ রোগীদের মলদ্বারে ব্যথা ও জ্বালা-পোড়া থাকতে পারে। ক্যান্সার হলে অতিদ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

অধ্যাপক ডা. রাকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার

বৃহদান্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ

আরএ হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা

মোবাইল : ০১৭৮৭৬৯৪৫০৮