Logo

অনুশীলনে এসে ফেডারেশনের ভেতরেই ধর্ষণের শিকার নারী ক্রীড়াবিদ! 

অনুশীলনে এসে ফেডারেশনের ভেতরেই ধর্ষণের শিকার নারী ক্রীড়াবিদ! 

 যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ ‘মি টু’ যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়, তখন বাংলাদেশেও উঠে আসছে নানা যৌন নির্যাতনের কথা। এবার জায়গাটা ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে এক নারী ক্রীড়াবিদকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফেডারেশন।

যৌন নিপীড়নের এ অভিযোগ এসেছে ফেডারেশনের অফিস সহকারী সোহাগ আলীর বিরুদ্ধে। তবে, এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন এই অফিস সহকারী।

ভুক্তোভোগী একজন নারী ভারোত্তোলক। জাতীয় ক্লাব ভারোত্তোলনে স্বর্ণজয়ী এই ক্রীড়াবিদ এখন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার এই নারী ক্রীড়াবিদের মায়ের অভিযোগ, ‘১৩ সেপ্টেম্বর অনুশীলনের কথা বলে ডেকে নিয়ে সোহাগ আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। সে সকালে গিয়ে দুপুর ৩টায় ফিরে আসে এবং এর পর থেকেই তাকে অস্থির দেখাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর বলে, আমার শরীর ব্যথা করছে। আরও বলে জ্বরের ওষুধ এনে দিতে। কিন্তু কী হয়েছে কিছু বলেনি। অনেক পরে গত ৯ অক্টোবর আমার ফুপাতো ভাইয়ের বউয়ের কাছে সব খুলে বলে।’

এর পরও কেন মামলা করেননি? মায়ের জবাব, ‘আসলে মেয়ের একটা ভবিষ্যৎ আছে। সব কিছু জানাজানি হয়ে গেলে তার ক্ষতি হবে বলে আমরা মামলা-মোকদ্দমার দিকে যাইনি।’

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সেই ক্রীড়াবিদ এখন হাসপাতালে। গত ২৩ অক্টোবর এই ভারোত্তোলককে ভর্তি করা হয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের আইসিইউতে। একদিন পর তাকে বেডে নেওয়া হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসার মধ্যে আছেন তিনি।

অভিযুক্ত সোহাগ আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কারো সঙ্গে এ রকম করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

এদিকে এমন ঘটনার বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফেডারেশন। ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কর্নেল নজরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘আমি মেয়েটির ঘটনার কথা শুনেছি। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি সহ-সভাপতি উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন সাহেবের নেতৃত্বে, কমিটিতে শাহরিয়ার সুলতানা সূচিসহ আরো একজন সদস্য থাকবেন। তারা পুরো ব্যাপারটা তদন্ত করবেন, এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। দেশের প্রচলিত আইনেও শাস্তি হতে পারে।’ তদন্তকালীন সময়ে সোহাগের চাকরি স্থগিত করেছে ফেডারেশন।